নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভরদুপুরে কলকাতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল দু’জনের। পার্ক সার্কাস সাত মাথার মোড় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বেকবাগানে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের আউট পোস্টের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে। হাইকমিশনে কর্মরত নিরাপত্তারক্ষী এলোপাথাড়ি গুলি চালান বলে খবর। তাঁর ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩ জন, মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। পরে নিজেকেও গুলি চালিয়ে শেষ করে দেন ওই নিরাপত্তারক্ষী।
আরও পড়ুনঃ সপ্তাহে তিন দিন ছুটি, দৈনিক ১২ ঘণ্টা কাজ! জুলাইতে কার্যকর হচ্ছে নয়া আইন।
কালিম্পঙের বাসিন্দা চোডুপ লেপচা। কাজ করতেন কলকাতা পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীর পঞ্চম ব্যাটালিয়নে। সপ্তাহখানেক আগে আরও অনেকের সঙ্গে তাঁকেও বেকবাগানের কাছে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের আউটপোস্টের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে বহাল করা হয়েছিল। তিনিই আচমকা গুলি চালাতে থাকেন।

শুক্রবার দুপুরে, বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অ্যাপনির্ভর মোটরবাইকে করে যাচ্ছিলেন এক মহিলা। আচমকাই ছুটে আসা গুলি বিদ্ধ করে তাঁকে। গুলিতে নিহত হন তিনি। বাইক নিয়ে পড়ে যান হতচকিত গুলিবিদ্ধ চালক। নিরাপত্তারক্ষীর ছোড়া গুলিতে যখন লুটিয়ে পড়েন ওই মহিলা, সেই দৃশ্য সহ্য করতে পারেননি তিনি। সাথে সাথেই নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে নিজের গলায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

সূত্রের খবর, ওই পুলিশকর্মী আচমকাই মানসিক ভারসাম্য হারান। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন তিনি। প্রায় ১০ থেকে ১৫ রাউণ্ড গুলি চালান ওই নিরাপত্তাকর্মী। ঘটনার খবর পেয়ে বেনিয়াপুকুর ও কড়েয়া থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছয়।
খুন করে আত্মঘাতী কনস্টেবল, মানসিক অবসাদ বললেন কমিশনার।

এদিন সকাল থেকেই নূপুর শর্মা কাণ্ড নিয়ে পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভ অবস্থান চলছিল। তার মধ্যে স্থানীয় মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় শোকে ও অসন্তোষে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার প্রবীন ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘চোডুপ লেপচা সম্ভবত মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই কারণেই তিনি এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে নিজেও আত্মঘাতী হলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।’’



