২০ দিন পর পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে অবশেষে দেশের মাটিতে ফিরলেন হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা ও বিএসএফ কনস্টেবল পূর্ণম কুমার ওরফে পিকে সাউ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ অটারী-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং ও কূটনৈতিক আলোচনার পরই সফল হয়েছে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া।
গত ২৩ এপ্রিল, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হানার ঠিক পরদিন, পঞ্জাবের পাঠানকোটে ২৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নে কর্মরত ছিলেন পূর্ণম। ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েন তিনি এবং একটি গাছের তলায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাক রেঞ্জার্সের হাতে ধরা পড়েন। এমন ঘটনায় সাধারণত দু’দেশের মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হয় এবং সংশ্লিষ্ট জওয়ানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই ক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রথমে তাঁকে ছাড়তে অস্বীকার করে।


পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরলেন বাংলার ছেলে BSF জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউ, ২০ দিন পর মুক্তি

পূর্ণমের স্ত্রী রজনী সাউ তাঁদের আট বছরের সন্তান ও আত্মীয়দের নিয়ে ছুটে যান হিমাচল প্রদেশের কাংড়ায় বিএসএফ সদর দফতরে। এরপর স্বামীর কর্মস্থল ফিরোজপুরেও যান তিনি। উত্তেজনার কারণে সীমান্তে যাওয়ার অনুমতি না পেলেও, তাঁদের আবেদন ও আন্দোলন থেমে থাকেনি।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ফোন করে পূর্ণমের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সতীশচন্দ্র দুবে উত্তরপাড়ার এক রাজনৈতিক সভায় বলেন, ‘‘অভিনন্দনের মতো পূর্ণমকেও ছাড়িয়ে আনা হবে।’’

এই ঘটনার ফলে দেশবাসীর মনে ফিরে আসে ২০১৯ সালের উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের বন্দিত্ব ও প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি। ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযান এবং তার পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের পাল্টা হামলার সময় মিগ-২১ বাইসন নিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়েন অভিনন্দন। পরে পাক সেনার হাতে ধরা পড়লেও আন্তর্জাতিক চাপে তাঁকে ভারতের হাতে ফিরিয়ে দেয় ইসলামাবাদ।


পূর্ণম সাউয়ের মুক্তি একই রকমভাবে সেনা সদস্যদের সাহস ও পরিবার ও প্রশাসনের সমবেত প্রচেষ্টার ফল বলেই ধরা হচ্ছে। ঘটনার উল্টো দিকে, বর্তমানে রাজস্থানে সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএসএফ এক পাক রেঞ্জারকে আটক করেছে। তবে তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনও ঘোষণা দেয়নি।








