পাকিস্তানে ফের সেনা অভ্যুত্থানের জল্পনা? দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সংকটের অভিযোগে চর্চার কেন্দ্রে শাহবাজ সরকার

মহসিন নকভির বিস্ফোরক মন্তব্যে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা। প্রশাসনিক সংকট ও দুর্নীতির অভিযোগের মাঝে সেনা হস্তক্ষেপ নিয়ে বাড়ছে আলোচনা, যদিও সরকারি স্তরে কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সেনা অভ্যুত্থানের জল্পনা ছড়িয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)-র সাম্প্রতিক একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে এই আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নজিরবিহীন দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সংকট নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানে সেনা অভ্যুত্থানের কোনও সরকারি ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।

পাকিস্তানের ইতিহাসে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ নতুন নয়। অতীতে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান (Ayub Khan) ১৯৫৮ সালে, জেনারেল জিয়া-উল-হক (Muhammad Zia-ul-Haq) ১৯৭৭ সালে এবং জেনারেল পারভেজ মোশাররফ (Pervez Musharraf) ১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। সেই ইতিহাসের কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মহসিন নকভি দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামো গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম দুর্নীতির সঙ্গে রাজনীতিবিদ, আমলা, বিচারব্যবস্থার সদস্য এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার কিছু ব্যক্তি জড়িত। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযোগে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নকভির এই মন্তব্যের পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir)-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে সেনা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার বিষয়ে কোনও সরকারি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নকভির সাম্প্রতিক অবস্থান পাকিস্তানের ক্ষমতার সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে অন্য অংশের মত, এই ধরনের মন্তব্যকে সরাসরি সম্ভাব্য সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এদিকে পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিরোধী ও শাসক শিবিরের সংঘাতও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও, শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তরফে ক্ষমতা দখলের কোনও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ বা ঘোষণা এখনও হয়নি।

আগামী দিনে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে সরকার, সেনাবাহিনী এবং দেশের অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপের উপর। আপাতত সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা মূলত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে; এর পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন