12th ফেব্রুয়ারি, 2026 (বৃহস্পতিবার) - 3:51 পূর্বাহ্ন
19 C
Kolkata

‘টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করে ফেলে দিয়েছে আমেরিকা’—সংসদে বিস্ফোরক দাবি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

সংসদে খোয়াজা আসিফের বিস্ফোরক মন্তব্য—আমেরিকার স্বার্থে জড়িয়ে বহু যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তান, ‘টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার’ অভিযোগে নতুন বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মার্কিন-পাক সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকা নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে পাকিস্তানকে ব্যবহার করেছে, পরে ‘টয়লেট পেপারের থেকেও খারাপভাবে’ ছুঁড়ে ফেলেছে। এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠেছে দুই দেশের সম্পর্কের বাস্তব সমীকরণ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে সক্রিয় হয়েছে ইসলামাবাদ। বাণিজ্যচুক্তি, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রকাশ্য প্রশংসার মাধ্যমে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। সেই আবহেই সংসদে দাঁড়িয়ে আমেরিকার ভূমিকাকে তীব্র সমালোচনা করেন খোয়াজা আসিফ।

তাঁর বক্তব্য, ১৯৯৯ সালের পর আমেরিকার সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করেছে, বিশেষত আফগানিস্তান প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘ওয়াশিংটনের পেছনে ছোটা ছিল গুরুতর ভুল, যার মূল্য কয়েক দশক পরেও দিতে হবে পাকিস্তানকে।’’

আসিফের মতে, আফগানিস্তানে সোভিয়েত-বিরোধী যুদ্ধের সময় আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থেই পাকিস্তানকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই সময় জিহাদের ঘোষণার প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির খেলায় পাকিস্তানকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এমন সংঘাতে, যেখানে দেশের নিজস্ব স্বার্থ জড়িত ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আমেরিকার সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য ভয়াবহ মূল্য বয়ে আনে। এই নীতির জন্য তিনি প্রাক্তন সেনাশাসক জিয়াউল হক এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশরফকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, বহির্বিশ্বের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ফলেই অর্থনীতি ও সমাজ দুই ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান।

তবে এই বক্তৃতায় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বর্তমান কূটনৈতিক সমীকরণ বা ভারত-পাক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তোলেননি আসিফ। গত বছর ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল শাহবাজ় শরিফের সরকার। ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবিকে প্রকাশ্যে সমর্থনও জানিয়েছিল ইসলামাবাদ।

ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতিতে ট্রাম্পের ভূমিকার দাবি নিয়েও পাকিস্তান প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়ায়। এমনকি তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও সমর্থন জানানো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত

Discover more from Najarbandi | Get Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading