ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনার মাঝেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন পাকিস্তানের সদ্যঘোষিত CDS জেনারেল আসিম মুনির। পদে বসার পর প্রথম ভাষণেই তিনি সরাসরি ভারতকে উদ্দেশ করে আগুনঝরা মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, ভারত কোনও ভুল ধারনায় থাকলে পরের বার পাকিস্তানের জবাব হবে আরও দ্রুত এবং আরও কঠোর। এই মন্তব্য ঘিরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে—বদলে যাওয়া উপাধি কি পাকিস্তান সেনা নেতৃত্বের আগ্রাসনকে আরও বাড়িয়ে তুলবে?
পদ গ্রহণের পর রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টারে মুনিরকে আনুষ্ঠানিক সম্মান জানানো হয়। সেই মঞ্চ থেকেই পাকিস্তান CDS আসিম মুনির তাঁর প্রথম আগ্রাসী বার্তা দেন। তিনি বলেন, “ভারত যেন কোনও ভুল ধারনার মধ্যে না থাকে। এবার প্রতিক্রিয়া হবে আরও বেশি কঠোর।” স্পষ্টতই এই সতর্কবাণী এসেছে সাম্প্রতিক অপারেশন সিঁদুর–এর পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করে দেয় ভারতীয় সেনা।


‘আরও কঠোর জবাব দেব’, ভারতকে হুঁশিয়ারি মুনিরের
ভারতের সফল প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বয়ান ছিল আখেরে ভুয়ো প্রচারের উপরে দাঁড়ানো। সেই লজ্জা ঢাকতেই দেশের সেনাকে চাঙ্গা করতে এখন আবার ভারত-বিরোধী উসকানির পথ বেছে নিচ্ছে ইসলামাবাদ, এমন মত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের।
মুনিরের বক্তব্য শুধু ভারতের বিরুদ্ধেই নয়, নিশানা ছিল আফগানিস্তানও। তালিবানকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি জানান, তারা পাকিস্তান অথবা টিটিপি—দু’টির মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য হবে। তাঁর দাবি, পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনও পক্ষকেই ছাড় দেবে না।

গত এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলায় ২৬ সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত ৭ মে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিতে নিখুঁত হামলা চালায়। অপারেশন সিঁদুর-এ পাকিস্তানের শতাধিক জঙ্গিকে নির্মূল করে ভারত। আন্তর্জাতিক মহলের বেশিরভাগই ভারতের ওই পদক্ষেপকে আত্মরক্ষামূলক ও কৌশলগত ভাবে সফল বলেই মানে। পরবর্তী সংঘাতে পাকিস্তানের এলোপাথাড়ি হামলা ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।


ফলে এখন মুনিরের হুঙ্কারকে অনেকেই দেখছেন ‘ঘরোয়া মনোবল জোগানোর প্রচেষ্টা’ হিসেবে। কারণ আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানের কথাবার্তার চেয়ে তাদের কার্যকলাপকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।
এদিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রচারে দেখা গিয়েছে AI-তৈরি ভিডিও দিয়ে যুদ্ধজয়ের ভুয়ো দাবি—যা গোটা বিশ্বের কাছে হাস্যকর হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নতুন CDS–এর ভারতবিরোধী কঠোর বক্তব্য কি উল্টে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সঙ্কট আরও গভীর করবে? সেই দিকেই এখন চোখ বিশেষজ্ঞ মহলের।









