28th ফেব্রুয়ারি, 2026 (শনিবার) - 7:34 অপরাহ্ন
32 C
Kolkata

যুদ্ধে অগ্নিগর্ভ সীমান্ত, পাকিস্তান–আফগানিস্তান সংঘাত কেন বাড়ছে?

পাকিস্তানের বিমান হামলার পাল্টা জবাব আফগানিস্তানের। ডুরান্ড লাইন, টিটিপি ও শরণার্থী ইস্যু ঘিরে বাড়ছে সংঘাত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাশিয়া–ইউক্রেন এবং ইজ়রায়েল–প্যালেস্তাইন সংঘাতের আবহেই এবার উত্তপ্ত পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্ত। বহু বছর ধরে টানাপোড়েন চললেও চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতি সরাসরি সামরিক সংঘাতে গড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা, পাল্টা গোলাবর্ষণ এবং প্রাণহানির খবর মিলছে— যদিও দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বিস্তর ফারাক।

কীভাবে শুরু হল নতুন সংঘাত?

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে Tehrik-i-Taliban Pakistan (টিটিপি)-র নাম বারবার উঠে আসছে ইসলামাবাদের বক্তব্যে। এর জবাবে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে ‘সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে।

আফগানিস্তানের শাসকগোষ্ঠী Taliban পাল্টা অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। কাবুল-সহ একাধিক প্রদেশে হামলার কথা স্বীকার করে তারা পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khawaja Asif জানান, তালিবানদের বিরুদ্ধে “ধৈর্যের সীমা পেরিয়েছে” ইসলামাবাদ এবং সরাসরি অভিযান চালানো হয়েছে।

প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি

পাকিস্তানের দাবি, অভিযানে শতাধিক তালিবান যোদ্ধা নিহত। অন্যদিকে আফগান পক্ষের বক্তব্য, পাল্টা হামলায় বহু পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। স্বাধীন সূত্রে সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়।

সংঘাতের মূল কারণগুলি

১. টিটিপির উত্থান

Tehrik-i-Taliban Pakistan ২০০৭ সালে গঠিত হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে। জাতিসংঘ ও আমেরিকা তাদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপি আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করছে।

২. ডুরান্ড লাইন বিতর্ক

Durand Line— ১৮৯৩ সালে নির্ধারিত ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তরেখা। পাকিস্তান একে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে মানলেও আফগানিস্তান ঐতিহাসিকভাবে তা মানতে নারাজ। পুশতুন অধ্যুষিত এই অঞ্চলেই বেশি সংঘর্ষ হয়।

৩. আফগান শরণার্থী ইস্যু

২০২৩ সালে পাকিস্তান অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে, যার বড় অংশ প্রভাবিত হন আফগান শরণার্থীরা। কয়েক দশকের যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে লক্ষাধিক আফগান পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়।

আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ছে

সংঘাত কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়। খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে গোটা মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও সীমান্তে বড় সংঘাতের পর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু মূল সমস্যাগুলি অমীমাংসিত থাকায় নতুন করে উত্তেজনা জেগেছে।

দুই দেশই কড়া অবস্থানে। কূটনৈতিক সংলাপ শুরু না হলে সংঘাত আরও ছড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ— এই লড়াই যদি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়, তার প্রভাব পড়বে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত

Discover more from Najarbandi | Get Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading