ধর্ম জিজ্ঞেস করে হত্যা, আর্তনাদ আর হাহাকারে কেঁপে উঠেছিল উপত্যকা। পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরীহ নাগরিককে নৃশংস ভাবে খুন করার স্মৃতি আজও দেশজুড়ে ক্ষত হয়ে রয়ে গিয়েছে। সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কথিত ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ফের তীব্র চাঞ্চল্য। পাকিস্তানে বসে লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ নেতার কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে হুমকি—“ভারত আমাকে ভয় পায়।” যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওয় যাঁকে দেখা গিয়েছে, তিনি সইফুল্লা কাসুরি। তাঁকে দীর্ঘদিন ধরেই পহেলগাঁও হামলার অন্যতম মূলচক্রী বলে মনে করা হচ্ছে। কাসুরি হল কুখ্যাত জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদ-এর ঘনিষ্ঠ ও ‘ডানহাত’। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এতদিন ধরেই তিনি পাকিস্তানে আত্মগোপনে ছিলেন।


এবার পাকিস্তানের এক স্কুলের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই ভাষণ দিতে দেখা গেল তাঁকে। ভিডিওয় কাসুরি দাবি করেন, “পাক সেনা আমাকে আমন্ত্রণ জানায়। কোনও সেনার মৃত্যু হলে শেষকৃত্যেও আমাকে ডাকা হয়।” এখানেই থামেননি তিনি। পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে ঔদ্ধত্যের সুরে বলেন, “তোমরা জানো ভারত আমাকে ভয় পায়? আমাকে পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী বলা হয়। আজ আমার নাম গোটা বিশ্বে পরিচিত।”
ভিডিওয় তাঁকে ভারতের নিরাপত্তা অভিযানের দিকেও কটাক্ষ করতে শোনা যায়। ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গে কাসুরির মন্তব্য, “জঙ্গি ঘাঁটি বেছে বেছে হামলা চালিয়ে ভারত বড় ভুল করেছে।” এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি নেতারা কী ভাবে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য রাখছে?
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। যদিও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিক বার সেই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগে পাকিস্তান ‘গ্রে লিস্ট’-এও পড়েছিল। সাম্প্রতিক এই ভিডিও সামনে আসার পর ফের একবার সেই অভিযোগই জোরালো হল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।


পহেলগাঁওয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও দেশের মননে দগদগে। সেই আবহেই পাকিস্তানে বসে এক লস্কর নেতার এমন হুমকি ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।







