Home Blog Page 5

সন্দীপ রায়ের ডিজাইনে নতুন KIFF-এর লোগো, ভিক্টোরিয়ায় উদ্বোধন! ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অতিথি কারা?

৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশ করছেন মিঠুন চক্রবর্তী
মিঠুন চক্রবর্তীর হাত ধরে প্রকাশ্যে এল সন্দীপ রায়ের ডিজাইনে ৩২তম KIFF-এর নতুন লোগো।

দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতায় শুরু চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি। রবিবার, ১ নভেম্বর, নন্দনে প্রকাশ্যে এল ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) নতুন লোগো। লোগোটি তৈরি করেছেন পরিচালক সন্দীপ রায় (Sandip Ray)। সাংবাদিক সম্মেলনে সেটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ডিসেম্বরের ৩২তম KIFF ঘিরে এবার একাধিক নতুন চমকের ইঙ্গিত মিলেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আর অতিথি তালিকায় রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, কঙ্গনা রানাওয়াত-সহ একঝাঁক তারকার নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

রবিবার নন্দনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিঠুন চক্রবর্তীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ চলচ্চিত্র জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। নতুন লোগো প্রকাশের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগোল। সন্দীপ রায়ের নকশায় চলচ্চিত্রের পরিচিত উপাদানের পাশাপাশি কাশফুলের মোটিফও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উৎসবের নতুন পরিচিতি তৈরি করতেই এই নকশা বদল বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।

এবারের চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল প্রাঙ্গণে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগের বছরগুলিতে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম বা ধনধান্য অডিটোরিয়ামের মতো জায়গায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে। এবার ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে ঘিরে নতুন আয়োজন দর্শকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে। উৎসবের দিনক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর এবং ১৭ থেকে ২৩ ডিসেম্বর—দুই রকম তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তাই চূড়ান্ত সরকারি সূচি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তারিখ নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয়দের নিয়ে তারকার মেলা?

৩২তম KIFF-এর অতিথি তালিকা নিয়েও ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার, কঙ্গনা রানাওয়াত, অনুরাগ বসু এবং মধুর ভাণ্ডারকরের মতো তারকাদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তাঁদের প্রত্যেকের উপস্থিতি এখনও চূড়ান্ত নয়। উৎসবের মুখ্য উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কয়েকজন তারকার সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

এবারের KIFF-এর ফোকাস কান্ট্রি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে আয়ারল্যান্ডকে। ফলে ভারতীয় ছবির পাশাপাশি আইরিশ সিনেমার বিশেষ উপস্থিতিও থাকবে উৎসবে। নতুন লোগোর পাশাপাশি পুরস্কারের ট্রফিতেও বদল আনার পরিকল্পনা হয়েছে। গোল্ডেন রয়্যাল বেঙ্গল অ্যাওয়ার্ডের নতুন নকশা নিয়েও আলোচনা চলছে।

উৎসবের চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। নতুন লোগো, বদলে যাওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু এবং জাতীয় স্তরের তারকাদের উপস্থিতির সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে এবারের চলচ্চিত্র উৎসবকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

চলচ্চিত্র উৎসব সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, ছবি জমা দেওয়ার নিয়ম এবং কার্ডের আবেদন নিয়ে ৫ নভেম্বর থেকে KIFF-এর সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে সিনেমাপ্রেমীদের এখন নজর উৎসবের চূড়ান্ত সূচি এবং অতিথি তালিকার দিকে।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটাই প্রথম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। তাই এবারের KIFF-কে ঘিরে চলচ্চিত্র মহলে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। নতুন লোগো প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। এখন দেখার, ডিসেম্বরের উৎসবে রজনীকান্ত, প্রভাস-সহ আলোচিত তারকাদের মধ্যে কারা শেষ পর্যন্ত কলকাতায় হাজির হন।

‘জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরতে হবে, জেলেও যেতে হবে’, রামলীলা ময়দানে মোদি-শাহকে চ্যালেঞ্জ রাহুলের

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন রাহুল গান্ধী
রামলীলা ময়দানের সমাবেশ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা রাহুল গান্ধীর।

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Bloc) সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানালেন তিনি। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারির সুরে রাহুল বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে শুধু পদ থেকেই সরতে হবে না, জেলেও যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কংগ্রেস নেতা।

রবিবার, ১ নভেম্বর, ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে রামলীলা ময়দানে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিরোধী জোট। কর্মসূচিতে যোগ দেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব এবং ফারুক আবদুল্লা-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে উঠে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি বার্তা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। রামলীলা ময়দানে জমায়েত হওয়া মানুষের আওয়াজ সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই প্রতিবাদ শুধু রাজনৈতিক নেতাদের নয়, দেশের পড়ুয়া ও তরুণ প্রজন্মেরও। সংবিধানকে ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না এবং কেউই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।

বাংলার পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও কর্নাটকের ভোট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটাধিকার প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, NDA এবং বিরোধী জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র তিন শতাংশ। এরপর ১৫ শতাংশ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাহুল প্রশ্ন করেন, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?

তাঁর বক্তব্য, এই তথ্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পরিসংখ্যান থেকেই উঠে এসেছে। তবে ১৫ শতাংশ ভোটার বাদ পড়ার দাবি এবং তার সঙ্গে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বৈধতার সম্পর্ক নিয়ে রাহুলের বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত বা অযোগ্য ভোটারের নাম চিহ্নিত করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়।

এরপর আরও কড়া ভাষায় রাহুল বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর পর মোদি ও শাহের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, ভোট চুরির অভিযোগে যাঁরা দায়ী, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে। রাহুলের বক্তব্য, “জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও সরাসরি নিশানা করেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহ’ এবং ‘রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার’ শব্দবন্ধও উঠে আসে। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সাধারণ চুরির মতো ঘটনা নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়ার শামিল। তবে এটি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যা; কোনও আদালত এই ঘটনায় দেশদ্রোহের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করেছে, এমন তথ্য নেই।

ভোটার তালিকা নিয়ে রাহুলের দেওয়া পরিসংখ্যান ঘিরেও বিতর্ক রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যের ব্যাখ্যা অবশ্য আলাদা। কমিশন SIR প্রক্রিয়ায় ১৩.৩৯ কোটি ভোটারকে মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত বা দ্বৈত এন্ট্রি হিসেবে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে। এই সংখ্যাকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বৈধ ভোটারের সংখ্যা হিসেবে সরাসরি ধরা যায় না।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন SIR প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত এবং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন ভোটারদের চিহ্নিত করতেই এই সংশোধন। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে মনে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানানোর সুযোগও রয়েছে। বিজেপির তরফেও বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশের আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচিও পালন করে বিরোধী জোট। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রবিবারের সমাবেশে সেই প্রতিবাদেরই পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরব হন রাহুল গান্ধী।

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ! শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, জ্বলল পুলিশের গাড়ি

বাংলাদেশে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ।

বাংলাদেশে ফের শ্রমিক অসন্তোষ। পোশাকশিল্পের কর্মীদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রবিবার, ১ নভেম্বর, ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মিরপুরে মেট্রোরেল স্টেশনের নীচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। বিক্ষোভের জেরে ঢাকার একাধিক মেট্রোরেল স্টেশনে সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়।

গত কয়েক দিন ধরেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শনিবারও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছিল। রবিবার সেই আন্দোলনের আঁচ পৌঁছয় গাজীপুরে। সেখানে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। কোনাবাড়ি এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

ঢাকার মিরপুরেও সকাল থেকে জমায়েত হতে থাকেন পোশাকশ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। এই দাবিতে সড়ক অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নীচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। সংঘর্ষের জেরে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ এবং পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনে দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটে পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেট্রোরেল ও সড়ক যোগাযোগ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। বিক্ষোভের জেরে কয়েকটি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও খবর।

এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন শ্রমিকদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ করবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বোর্ড কবে সুপারিশ জমা দেবে এবং নতুন মজুরি কাঠামো কবে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শিল্পের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের জীবিকা জড়িত। তাই মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন, কারখানার কাজ বন্ধ থাকা এবং পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা অর্থনৈতিক ও সামাজিক—দু’দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। এখন নজর মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং সরকার-শ্রমিক আলোচনার দিকে।

১ নভেম্বর বিকেলের আপডেট: সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (UNB) জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪-৫ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। ফলে প্রাথমিক প্রতিবেদনের তুলনায় আহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বর্তমানে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২,৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা। ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের কাজ শুরু হওয়ার কথা দ্রুতই।

‘আগে ভ্যানিশ হটাও, তারপর অন্য কাজ’, রামলীলা ময়দান থেকে যুব প্রজন্মকে ডাক মমতার

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রামলীলা ময়দানের সভা থেকে যুব প্রজন্মকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

দিল্লির রামলীলা ময়দানে রবিবার, ১ নভেম্বর, বিরোধী জোটের বড় সমাবেশে ফের একবার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই সভা থেকে তাঁর স্লোগান, ‘আগে ভ্যানিশ হটাও, তারপর অন্য কাজ।’ তবে শুধু রাজনৈতিক আক্রমণেই থেমে থাকেননি তিনি। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যুব প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, যুবকেরা নেতৃত্ব দিন, তাঁরা পাশে থেকে পথ দেখাবেন।

রবিবার ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিল্লিতে মিছিল ও সমাবেশ করে ইন্ডিয়া জোট (INDIA Bloc)। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবন থেকে বিরোধী নেতারা খোলা গাড়িতে মিছিল করে রামলীলা ময়দানের দিকে যান। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিরোধী দলের নেতা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR এবং কথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি ওঠে সভায়।

বক্তব্য রাখতে উঠে জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গেই ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভোট, মানুষের চাকরি ও জীবন—সবই লুট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গেও ভোট লুট হয়েছে এবং তাঁকে হারানো হয়েছে। এই অভিযোগগুলি অবশ্য মমতার রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কমিশন ও কেন্দ্রের অবস্থান আলাদা।

মমতার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় যুব প্রজন্মের ভূমিকা। পড়ুয়া, মহিলা এবং জেন জি-র তরুণদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, যুব প্রজন্মই এবার লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিক, প্রবীণরা পাশে থেকে পথ দেখাবেন। রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে এই বার্তা। কারণ, বিরোধী জোটের মঞ্চে রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক প্রবীণ নেতার উপস্থিতির মধ্যেই মমতা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন।

বিচারব্যবস্থার কাছেও আবেদন জানান মমতা। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে ‘ভারত বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান’ স্লোগান তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।

রামলীলা ময়দানের সভায় মমতার বক্তব্যে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে আক্রমণ করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ভোট লুট হয়েছে এবং তাঁকে পরাজিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। SIR প্রক্রিয়া নিয়েও বিরোধীদের আপত্তি, বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা, এই সমাবেশের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হল মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত বা অযোগ্য ভোটারের নাম চিহ্নিত করা; রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ কমিশন অস্বীকার করেছে।

সমাবেশ ঘিরে মমতা ও রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে যুব নেতৃত্বের প্রসঙ্গে মমতার বক্তব্যকে সরাসরি রাহুল গান্ধীকে এড়িয়ে যাওয়ার বার্তা হিসেবে দেখার মতো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। বিরোধী জোটের মঞ্চে দু’জনেই উপস্থিত ছিলেন এবং কর্মসূচিতে একাধিক দলের নেতারা অংশ নেন। ফলে মমতার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা চললেও তাঁর ঘোষিত বার্তা স্পষ্ট—আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মকে সামনে আসতে হবে।

নভেম্বর ২০২৬ মাসিক রাশিফল: মেষে সাফল্যের যোগ, তুলায় বাড়বে কাজের চাপ! কী আছে আপনার ভাগ্যে?

নভেম্বর ২০২৬ মাসিক রাশিফল মেষ থেকে মীন ১২ রাশির ভবিষ্যৎ
নভেম্বর ২০২৬-এ মেষ থেকে মীন—১২ রাশির মাসিক রাশিফল।

নতুন মাস মানেই নতুন পরিকল্পনা, নতুন আশা। জ্যোতিষশাস্ত্রের হিসেব অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৬ একাধিক গ্রহের অবস্থান ও শুভ যোগের কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। মাসের শুরুতেই রয়েছে রবি পুষ্য যোগ ও সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ। পাশাপাশি মাসের প্রথম ভাগে সক্রিয় থাকবে মহালক্ষ্মী রাজযোগ। ৪ নভেম্বর সূর্য ও বুধের সংযোগে তৈরি হওয়ার কথা বুধাদিত্য রাজযোগের।

মাসের শুরুতে সূর্য, বুধ ও শুক্র থাকবে তুলা রাশিতে। পরে সূর্য ও বুধ বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করবে। অন্যদিকে মঙ্গল, বৃহস্পতি ও কেতু সিংহ রাশিতে অবস্থান করবে। শনি থাকবে মীন রাশিতে বক্রী অবস্থায় এবং রাহুর অবস্থান থাকবে কুম্ভ রাশিতে। এই গ্রহগত অবস্থানের প্রভাব ১২টি রাশির জাতকদের জীবনে আলাদা আলাদা ভাবে পড়তে পারে।

তবে মনে রাখবেন, জ্যোতিষশাস্ত্রীয় রাশিফল বিশ্বাস ও প্রচলিত গণনার উপর নির্ভরশীল। এগুলিকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী বা আর্থিক, স্বাস্থ্য কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়। দেখে নিন, নভেম্বর মাসে মেষ থেকে মীন—কোন রাশির ভাগ্যে কী রয়েছে।

মেষ নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

নভেম্বর মাসে মেষ রাশির জাতকদের মনে অকারণ ভয় বা দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। আধ্যাত্মিক কাজকর্মের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হবে। তবে দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কথাবার্তায় সংযম বজায় রাখলে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হবে।

কর্মক্ষেত্রে নতুন সুযোগ আসতে পারে। যাঁরা পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাঁদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বাড়বে। তাই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক এগোনো প্রয়োজন।

বৃষ নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

বৃষ রাশির জাতকদের কর্মজীবনে নতুন সুযোগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে গিয়ে কিছু বাধার মুখে পড়তে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাফল্য পেতে একাধিকবার চেষ্টা করতে হতে পারে। ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাড়ি তৈরির বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজে অগ্রগতি হতে পারে। আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সময়টি লাভজনক হতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মিথুন নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

মিথুন রাশির জাতকদের ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন আনলে উপার্জন বাড়তে পারে। তবে আইনি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনও নথিতে সই করা বা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিন।

কাজের ব্যস্ততায় জীবনসঙ্গীকে অবহেলা করবেন না। পরিবারে অতিথির আগমন হতে পারে। নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে কথাবার্তায় সংযম বজায় রাখুন। আপনার সাধারণ মন্তব্যও অন্যের কাছে ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে।

কর্কট নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

কর্কট রাশির ব্যবসায়ীদের উপার্জন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদ এড়িয়ে চলাই ভালো। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের রাজনীতির কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী থাকুন।

অবিবাহিতদের নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হতে পারে। অন্যদিকে পারিবারিক দায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও চাপ বাড়তে পারে। দুই দিক সামলাতে গিয়ে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। সময় ভাগ করে কাজ করলে সুবিধা হবে।

সিংহ নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

সিংহ রাশির শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য নভেম্বর মাস উল্লেখযোগ্য হতে পারে। কাজের সুবাদে সুনাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেরিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে একাধিক নতুন পথ সামনে আসতে পারে। ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা করার জন্যও সময়টি গুরুত্বপূর্ণ।

জমি বা বাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে অহেতুক বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়বেন না। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে নিজের বক্তব্য প্রকাশের সময় সতর্ক থাকুন।

কন্যা নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

কন্যা রাশির জাতকদের স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচার যোগ রয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপার্জন বাড়তে পারে। ঋণের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায় লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণ করতে হতে পারে। তবে জীবনসঙ্গীর স্বাস্থ্য নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। শখের জিনিস কেনাকাটার কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মাসের শুরু থেকেই বাজেট তৈরি করে চলুন।

তুলা নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

তুলা রাশির জাতকদের নভেম্বর মাসে কাজের চাপ বাড়তে পারে। একাধিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে ব্যস্ততা তৈরি হবে। এই সময় বন্ধুদের মধ্যে কে সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী, তা বুঝতে পারবেন। কাউকে ভেবেচিন্তে আর্থিক সাহায্য করুন। অযোগ্য ব্যক্তিকে ঋণ দিলে সমস্যায় পড়তে পারেন।

বিরোধীদের তরফে বাধা আসতে পারে বলে জ্যোতিষীয় ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যের প্ররোচনায় কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। অপ্রয়োজনীয় খরচও বাড়তে পারে। তাই আর্থিক বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

বৃশ্চিক নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

বৃশ্চিক রাশির জাতকদের মাসের প্রথমার্ধে আইনি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শরীর-স্বাস্থ্য নিয়েও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনও অসুবিধা হলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিন।

কেরিয়ার সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আসতে পারে। গাড়ি কেনার যোগ রয়েছে। অবিবাহিতদের জীবনসঙ্গীর সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে জটিল কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ধনু নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

ধনু রাশির জাতকদের নিকট আত্মীয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। প্রয়োজনীয় কারণে অর্থ ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পূর্বপরিচিত কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারেন। বাবার শরীর-স্বাস্থ্য নিয়েও চিন্তা বাড়তে পারে।

তীর্থযাত্রার যোগ রয়েছে। কোনও অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ আপনার কাজে আসতে পারে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে এগোনো ভালো।

মকর নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

মকর রাশির জাতকদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার জন্য সুনাম বাড়তে পারে। বিমা বা উত্তরাধিকার সূত্রে অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পুরনো ঋণ পরিশোধের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে ব্যবসায় পরিশ্রমের তুলনায় প্রত্যাশিত ফল নাও পেতে পারেন।

নিজের বক্তব্য প্রকাশের সময় সতর্ক থাকুন। কথার ভুল ব্যাখ্যা থেকে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বাড়ির গুরুজনদের সঙ্গে মতভেদ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পারিবারিক বিষয়ে ধৈর্য বজায় রাখলে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হবে।

কুম্ভ নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

কুম্ভ রাশির জাতকদের পারিবারিক বিষয়ে দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে। বাড়ির কোনও বিষয় নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন গাড়ি কেনার সম্ভাবনা থাকলেও কেনাকাটার আগে আর্থিক দিকটি বিবেচনা করে নিন।

অবিবাহিতদের বিয়ের সম্বন্ধ আসতে পারে। তবে চলাফেরার সময় সতর্ক থাকুন, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে। স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকুন। কিডনি বা মূত্রনালির সংক্রমণ সংক্রান্ত কোনও উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মাসে খরচের চাপ তুলনামূলক কম থাকতে পারে।

মীন নভেম্বর ২০২৬ রাশিফল

মীন রাশির জাতকদের নতুন চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে কিছু বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে সরকারি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। পুরনো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থেকে স্বস্তি পাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাড়াহুড়ো না করে সব দিক বিবেচনা করুন। বাড়ির গুরুজনদের সঙ্গে সামান্য মতবিরোধ হতে পারে। অযোগ্য কাউকে ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। আশ্চর্যের বিষয়, বিরোধীদের কাছ থেকেও প্রয়োজনে সাহায্য পেতে পারেন। অবিবাহিতদের বিয়ের যোগাযোগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

চোরবাগান কাণ্ডের পর কড়া নবান্ন! কালী-জগদ্ধাত্রী-ছটপুজোয় নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা

কালীপুজো জগদ্ধাত্রী পুজো ও ছটপুজোয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি নবান্নের
চোরবাগান কাণ্ডের পর কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো ও ছটপুজোর নিরাপত্তায় একাধিক নির্দেশিকা জারি রাজ্য প্রশাসনের।

দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। এর মধ্যেই সামনে কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং ছটপুজো। উৎসবের দিনগুলিতে মণ্ডপ থেকে নদীর ঘাট, সর্বত্রই বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। চোরবাগান কাণ্ডের পর কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো ও ছটপুজো উপলক্ষে একগুচ্ছ নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো, প্রশস্ত প্রবেশ ও প্রস্থানপথ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত ভিড়ের সময়েও মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন। কোনওভাবেই মণ্ডপের ভিতরে ধারণক্ষমতার বেশি দর্শনার্থী ঢুকতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য আগাম পরিকল্পনা করতে হবে উদ্যোক্তাদের।

মণ্ডপের ভিতর ও আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। দর্শনার্থীদের চলাচলের পথে অন্ধকার বা প্রতিবন্ধকতা যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভিড় সামলাতে পুজো কমিটিগুলিকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয় বজায় রাখতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুধু পুজো উদ্যোক্তারাই নন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব থাকবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপরেও। কোন মণ্ডপে কত মানুষের সমাগম হতে পারে, তা বিবেচনা করে পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করতে হবে। বিশেষ নজর থাকবে অতিরিক্ত ভিড় হয় এমন মণ্ডপগুলিতে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাতেও বিশেষ জোর দিয়েছে নবান্ন। প্রতিটি মণ্ডপে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে হবে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত দমকল পৌঁছতে পারে, তার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় জরুরি পরিস্থিতিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দমকলের ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে বাস্তবে এই সময়সীমা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তা, যান চলাচল ও দমকলের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।

কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোর পাশাপাশি ছটপুজোর ঘাটগুলির নিরাপত্তাতেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। নদী ও জলাশয়ের ঘাটে প্রচুর পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভোর ও সন্ধ্যায় পুজোর আয়োজন করা হয়। তাই ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নজরদারি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি নৌকায় প্রয়োজনীয় লাইফ জ্যাকেট রাখার কথাও বলা হয়েছে। জলপথে কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে ঘাটে ওঠানামার জায়গা এবং জলাশয়ের কাছাকাছি অংশে সতর্কতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ছটপুজোয় মহিলা পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। ঘাটগুলিতে মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পুজোর পর দ্রুত পরিষ্কারের ব্যবস্থার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের নির্দেশিকা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে। পুজোর আগে মণ্ডপ এবং ঘাটগুলির প্রস্তুতি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চোরবাগানের ঘটনার পর উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে নবান্ন। তবে নির্দেশিকা জারি করাই যথেষ্ট নয়, মাঠপর্যায়ে তার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ভিড়ের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থাই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ফের নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া আপডেট কী বলছে? কখন বৃষ্টি শুরু

Cloudy sky over Kolkata with rain clouds and approaching Bay of Bengal cyclone
বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ, কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস।

নভেম্বরের প্রথম দিনেই বঙ্গোপসাগরে ফের শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ। আজ ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (India Meteorological Department) পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তার অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে হলেও পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। রবিবার কোথায় বৃষ্টি হবে, কতদিন চলবে বৃষ্টি এবং কবে থেকে কমবে তাপমাত্রা?

রবিবার ১ নভেম্বরের আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ১ নভেম্বর রাতের মধ্যে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে এবং ২ নভেম্বর শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ৩ নভেম্বর দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়বে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আপাতত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জন্য ঘূর্ণিঝড়ের কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা থাকছে।

কলকাতার আবহাওয়া: আজ কখন বৃষ্টি হতে পারে?

আজ কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শহরের কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় কলকাতার আলিপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ। ফলে বৃষ্টি হলেও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থাকতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া: কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?

কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী ও সংলগ্ন জেলাগুলিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কিছু এলাকাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমানের আবহাওয়ার উপরও নজর রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের উপকূলীয় বুলেটিনে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে আপাতত দক্ষিণবঙ্গের জন্য ঘূর্ণিঝড়ের কোনও সতর্কতা নেই।

বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়, বাংলার উপর কতটা প্রভাব?

নতুন করে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। ৩১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পথে ছিল। ১ নভেম্বর দুপুরের মধ্যে আরও শক্তিশালী গভীর নিম্নচাপ এবং রাতের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

২ নভেম্বর পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর ৩ নভেম্বর সকালে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী অংশ দিয়ে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আপাতত সমুদ্রের পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে দূরবর্তী সতর্কসংকেত এবং সাগর দ্বীপ বন্দরে স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কবে থেকে কমবে তাপমাত্রা? শীতের আমেজ কি ফিরবে?

নভেম্বর শুরু হলেও কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে এখনও শীতের অনুভূতি সেভাবে তৈরি হয়নি। দিনের বেলায় তাপমাত্রা এবং বাতাসে আর্দ্রতার কারণে গরম অনুভূত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রার পরিবর্তনের দিকে নজর থাকবে। তবে এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার কোনও ইঙ্গিত নেই। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভোর ও রাতের দিকে কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ১ নভেম্বর কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলেও তার সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তাই পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।

ফের অশান্ত মণিপুর! নাগা-কুকি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অন্তত ৩, বাড়ছে উত্তেজনা

মণিপুরের নোনেই জেলায় কুকি-নাগা সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বাহিনীর টহল
মণিপুরের নোনেই জেলায় গুলির লড়াইয়ে তিনজনের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা।

২০২৩ সালের জাতিগত হিংসার স্মৃতি ফের উসকে দিয়ে নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে মণিপুর (Manipur)। শনিবার রাতে রাজ্যের রংমেই অধ্যুষিত এলাকায় গুলির ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতদের কুকি-জো সম্প্রদায়ের বলে জানা যাচ্ছে। নাগা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, ঘটনার পূর্ণ বিবরণ ও দায় কার, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

মণিপুরের নোনেই জেলায় শনিবার, ৩১ অক্টোবর সকালে এই গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নুংবা মহকুমার কেকরু নাগা গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে তিন কুকি-জো সম্প্রদায়ের যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে কারা গুলি চালিয়েছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে—সে বিষয়ে পুলিশ এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।

কুকি সম্প্রদায়ের সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর (Kuki Inpi Manipur) নিহতদের গ্রামরক্ষী স্বেচ্ছাসেবক বলে দাবি করেছে। সংগঠনের অভিযোগ, নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠী NSCN-IM এবং ZUF(K)-এর সদস্যরাই এই হামলার জন্য দায়ী। পাশাপাশি কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না বলেও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তারা। যদিও পুলিশের তরফে এখনও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে কুকি সংগঠনের অভিযোগকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শনিবারই ইম্ফলে মেইতেই ও নাগা সংগঠনগুলির উদ্যোগে বড় মিছিল হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজার হাজার মানুষ ওই কর্মসূচিতে যোগ দেন। মিছিল থেকে রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরানো, হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার, ঘরছাড়া মানুষদের নিরাপদে পুনর্বাসন এবং কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে কেন্দ্রের Suspension of Operations (SoO) চুক্তি বাতিলের দাবি ওঠে। মিছিলের আয়োজনে ছিল Coordinating Committee on Manipur Integrity (COCOMI); নাগা সংগঠন United Naga Council-ও কর্মসূচিকে সমর্থন জানায়।

মিছিলের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবিগুলির মধ্যে ছিল সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে অসম রাইফেলস প্রত্যাহারের দাবিও। সেনাপতিতেও একই দিনে পৃথক কর্মসূচি হয়। ফলে একদিকে নোনেই জেলায় প্রাণঘাতী গুলির লড়াই, অন্যদিকে ইম্ফল ও সেনাপতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠনের মিছিল—সব মিলিয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে মিছিলের সঙ্গে নোনেইয়ের গুলির ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে, এমন কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

এর আগে অক্টোবরের মাঝামাঝি ইম্ফল ইস্টের খোংবান-সুনুরোক উয়োক এলাকায় জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়েছিলেন একদল গ্রামবাসী। ওই ঘটনায় প্রথমে দু’জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। পরে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চার হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সেই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা মৃতদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোর সামনে পৌঁছেছিল। নতুন করে নোনেইয়ের ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং রাজ্যে সম্প্রদায়ভিত্তিক রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ৩৬টি সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে গঠিত মণিপুরে কোনও একটি গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এর আগে ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের পরিস্থিতি ও শান্তি ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছিল।

তবে নতুন করে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে মণিপুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একদিকে কুকি সংগঠনের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ, অন্যদিকে নাগা ও মেইতেই সংগঠনগুলির পৃথক দাবি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে নিরপেক্ষ তদন্ত, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নতুন করে হিংসা ছড়ানো আটকানো।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে INDIA জোটের মহাসমাবেশ, ৩৫০০ পুলিশ ও ২০০-র বেশি CCTV-তে নজরদারি

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের সমাবেশ
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের সমাবেশ।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে মহাসমাবেশ করছে বিরোধী INDIA জোট। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিল্লি পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫০০ পুলিশকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে ২০০-র বেশি CCTV ক্যামেরা। তবে রামলীলা ময়দানে সমাবেশের অনুমতি মিললেও কনট প্লেস থেকে মিন্টো রোড হয়ে মিছিল করে সেখানে যাওয়ার অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার সকাল থেকেই বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা দিল্লির বিভিন্ন জায়গা থেকে রামলীলা ময়দানে পৌঁছতে শুরু করেছেন। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির এই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, শরদ পাওয়ার এবং হেমন্ত সোরেনের মতো নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় দিল্লি ও নিউ দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৩৫০০ পুলিশ, CAPF ও ২০০-র বেশি CCTV-তে নিরাপত্তা

রামলীলা ময়দান এবং সংলগ্ন এলাকায় একাধিক স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে থাকবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) এবং অন্যান্য সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্যরা।

সমাবেশস্থলকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ২০০-র বেশি CCTV ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা এলাকার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের একাংশের শরীরে থাকবে বডি ক্যামেরাও। ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মঞ্চ, প্রবেশ ও বেরনোর পথ এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

রামলীলা ময়দানে অনুমতি, কিন্তু মিছিল নিয়ে আপত্তি পুলিশের

এই কর্মসূচি ঘিরে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বিরোধীদের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে মিছিলের অনুমতি নিয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ১ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কনট প্লেস-মিন্টো রোড জংশন থেকে মিছিল করে সমাবেশস্থলে পৌঁছনোর জন্য আলাদা কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ দিল্লি ও সেন্ট্রাল দিল্লি—দুই জেলার পুলিশকর্তারাই জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মিছিল সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদন বা আগাম বিজ্ঞপ্তি পৌঁছয়নি। ফলে সমাবেশের অনুমতি থাকলেও মিছিলের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই বিকেল ৫টার পর কর্মসূচি চালানো যাবে না। সমাবেশ শেষে দ্রুত ভিড় সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনও গন্তব্যের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

কোন কোন বিরোধী নেতা থাকছেন সমাবেশে?

কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে INDIA জোটের একাধিক শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সনিয়া গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, শরদ পাওয়ার, হেমন্ত সোরেন, তেজস্বী যাদব এবং রেবন্ত রেড্ডির মতো নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা।

সমাবেশের জন্য রামলীলা ময়দানে দুটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মূল মঞ্চে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের থাকার কথা। পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সাংসদ ও প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। ছাত্র সংগঠনগুলির একাংশেরও এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাইছে বিরোধীরা?

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি সামনে রেখে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছে INDIA জোট। বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। এই অভিযোগগুলির সত্যতা ও প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য রয়েছে। রবিবারের রামলীলা ময়দানের সমাবেশ সেই প্রতিবাদেরই একটি বড় কর্মসূচি।

‘অর্ণব’-এর পরেই ‘মুরাসু’! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন ঘূর্ণিঝড়, বাংলার কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস?

বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মুরাসু ও পশ্চিমবঙ্গের বৃষ্টির পূর্বাভাস
অর্ণবের পর বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর আশঙ্কা।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (IMD) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে। রবিবারই সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর সোমবার পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরাসু’। তবে পশ্চিমবঙ্গে এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আপাতত কম। যদিও বঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।

শনিবার তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি রবিবার সকালে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ভোর সাড়ে ৫টায় সেটি দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে আরও শক্তিশালী হয়ে মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে, দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে।

মঙ্গলবার অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ‘মুরাসু’

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। সোমবার, ২ নভেম্বর পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপকূল অতিক্রমের সময় ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং রায়লসীমায় ২ ও ৩ নভেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিণ ওড়িশার কয়েকটি জেলাতেও ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

আজ কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে?

রবিবার সকালে কলকাতার আকাশ মূলত রোদ ঝলমলে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে মেঘের আনাগোনা বাড়তে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বজায় থাকবে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। সোমবারও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে।

কলকাতার আবহাওয়া: ১-৪ নভেম্বর

আজ সর্বোচ্চ

৩৪°C

আজ সর্বনিম্ন

২৫°C

১ নভেম্বর, রবিবার

বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টি

২ নভেম্বর, সোমবার

হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা

৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার

মূলত মেঘলা, বৃষ্টির সম্ভাবনা কম

৪ নভেম্বর, বুধবার

বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে

আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরিবর্তনশীল।

দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?

আপাতত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনও বড় সতর্কতা নেই। তবে ১ থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। তবে সর্বত্র একসঙ্গে বৃষ্টি হবে, এমন পূর্বাভাস নেই।

৪ নভেম্বর থেকে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আপাতত ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর সরাসরি প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা দেখছে না আবহাওয়া দপ্তর।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় কী পরিবর্তন?

উত্তরবঙ্গেও আপাতত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ নভেম্বরের পর উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আবহাওয়া শুষ্ক হতে পারে। ফলে আপাতত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলেও পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তাল হতে পারে। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল এবং সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে যাঁরা গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ নিয়ে মূল উদ্বেগ অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের আশঙ্কা আপাতত নেই। তবে আগামী কয়েক দিন দুই বঙ্গের কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।