নজরবন্দি ব্যুরো: বিহারে সরকার বদলে এওয়ার পরেই বিরোধী জোটের পক্ষে সোচ্চার হয়েছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। গত মাসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে এবিষয়ে আলোচনা করেন জেডিইউ প্রধান। তখনই ঘরোয়া বৈঠকে বিরোধী দলগুলিকে একজোট হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার প্রস্তাব মতো বিরোধী শিবিরের মহাসম্মেলন হতে চলেছে চলতি মাসেই। আগামী ১৭ অথবা ১৮ তারিখ পাটনায় একই ছাদের তলায় আসতে চলেছে সমস্ত দলগুলি।
আরও পড়ুনঃ Anil Kumble: গম্ভীরের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় বিরাট কে নিয়ে বিস্ফোরক অনিল কুম্বলে


সূত্রের খবর, মমতার প্রস্তাব মতো বিরোধী শিবিরের মহাসম্মেলন -এ উপস্থিত থাকতে পারেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার এবং শিবসেনা (উদ্ধভ গোষ্ঠী) র প্রধান উদ্ধভ ঠাকরে। এখনও অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী, সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব। এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজাদেরও।
গত মাসেই কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন নীতীশ কুমার ও লালু পুত্র তেজস্বী যাদব। সেই বৈঠকের শেষে মমতা বলেছিলেন, আমি নীতীশজির কাছে আবেদন রেখেছি, জয়প্রকাশজির যে আন্দোলন হয়েছিল সেটা বিহার থেকেই হয়েছিল। তাই আগামী দিনে একটি ঘরোয়া বৈঠক করে সমস্ত দলগুলিকে একটি বার্তা দিতে চাই আমরা সবাই একসঙ্গে রয়েছে। আমরা সকলে চাই বিজেপি জিরো হয়ে যাক। মিথ্যে কথা বলে বিজেপি হিরো হয়েছে। দেশের জনগণ বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। নীতীশ কুমারের সঙ্গে ব্যক্তিগত ইগো নেই। আমরা সকলে চাই বিজেপিকে হারাতে।



বিহারে সরকার বদলের পরেই বিজেপি বিরোধী সমস্ত দলগুলিকে একই ছাদের তলায় আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। সেকারণেই দিল্লিতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী, সীতারাম ইয়েচুরি ও ডি রাজাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমনকি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকাজুন খাড়গে সহ রাহুল গান্ধীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন নীতীশ কুমার। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের জল্পনা উস্কে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক ও কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর সঙ্গেও বৈঠক করেন মমতা। দেখা করেন অখিলেশ যাদবের সঙ্গে।
২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী জোটের পালে হাওয়া লাগিয়ে দিল্লিতে গিয়ে সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব বেড়েই চলেছে। এমত অবস্থায় মমতার প্রস্তাব মতো বিরোধী শিবিরের মহাসম্মেলন -এ কংগ্রেস ও তৃণমূল কী একই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত হবে? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

যদিও বৃহস্পতিবার মালদহের ইংরেজবাজার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কর্নাটক থেকে পতন শুরু হলে আমরা খুশি হব। ডোন্ট ভোট ফর বিজেপি! যেখানে আমরা ভোটে দাঁড়াব, সেখানে অন্য কাউকে ভোট নয়। ভোট নষ্ট করবেন না। এরপর শুক্রবার মুর্শিদাবাদ থেকে তিনি বলেন, সব বিরোধী দল এক হয়ে যান। ওয়ান টু ওয়ান ফাইট হোক। চেষ্টা করব একসঙ্গে কাজ করার। মমতার এই বার্তা থেকে বিরোধী শিবির আরও কিছুটা অক্সিজেন ফিরে পাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, জটিলতা কাটিয়ে সমস্ত দলগুলিকে একজোট করার জন্য আবার উদ্যোগ নিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মমতার প্রস্তাব মতো বিরোধী শিবিরের মহাসম্মেলন, চলতি মাসেই হবে বৈঠক

যদিও গোটা বিষয়টিকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি। তাঁদের কথায়, ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে একজোট হয়েছিল সমস্ত দল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। বরং আসন বেড়েছে বিজেপির। গত লোকসভা ভোটের আগে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহীদ মিনার ময়দানে বিরোধীদের সম্মেলন করেছিলেন। তার ফল কী হয়েছিল, সবাই জানে।







