নজরবন্দি ব্যুরোঃ যাঁদের শরীরে নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত রয়েছে (যেমন, ও নেগেটিভ (O-), এবি নেগেটিভ (AB-), বি নেগেটিভ (B-) ইত্যাদি), বিপদের সময় (Medical emergency) তাঁদের রক্তের প্রয়োজন পড়লে তা খুঁজে পেতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় আত্মীয়-পরিজনদের। এবার দেখা মিলল Golden Blood-এর। ‘আমেরিকান রেড ক্রস’ জানাচ্ছে, যে সমস্ত গ্রুপের রক্ত প্রতি ১,০০০ জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে থাকে, সেগুলিকে ‘বিরল’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়।
আরও পড়ুনঃ সুতপাকে গুলি করে কুপিয়ে খুন করেছিল সুশান্ত, চার্জশিট পেশ
মানুষের শরীরে সোনালি রক্ত (Golden Blood)! না, রক্তের রং সোনালি নয়। কিন্তু সে রক্তের গ্রুপ এমনই বিরল থেকে বিরলতম (Rarest), যে তাকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘গোল্ডেন ব্লাড’। সম্প্রতি গুজরাতের রাজকোট শহরে ৬৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির শরীরে মিলেছে এই বিরলতম রক্ত। দেশের (India) মধ্যে এই প্রথম এই গোল্ডেন ব্লাডের খোঁজ পেলেন চিকিৎসকরা।

ও নেগেটিভ (O-) হল তেমনই একটি ‘বিরল’ রক্তের গ্রুপ। কিন্তু এমন একটি রক্তের গ্রুপ রয়েছে যা প্রতি ৬০,০০,০০০ জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটিই হল বিশ্বের ‘বিরলতম’ গ্রুপের রক্ত। রক্তের এই গ্রুপটিকে বলা হয় ‘গোল্ডেন ব্লাড’। চিকিত্সকদের কাছে এটি ‘আরএইচ-নাল’ (Rh-Null) নামে পরিচিত।
তথ্য বলছে, সাধারণত রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করা হয় এ, বি, ও এবং এবি দ্বারা। কিন্তু এছাড়াও আরও দুয়েকটি বিরল ব্লাড গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপ ‘বম্বে গ্রুপ’ নামে পরিচিত। সারা দেশে খুব কম মানুষের শরীরেই এই গ্রুপের রক্ত আছে। তার চেয়েও বিরল হল ‘এম নেগেটিভ’ (Emm Negative) গ্রুপ, যা গোটা বিশ্বে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির শরীরে পাওয়া গিয়েছে।

কয়েক দিন আগে সুরাতের বাসিন্দা এক ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হয়। তার পরে তাঁর হার্ট সার্জারি প্রয়োজন পড়ে। সেই অস্ত্রোপচারে যখন ব্লাডের দরকার হয়, তখনই পরীক্ষা করে সামনে আসে এই বিরল গোল্ডেন ব্লাডের রহস্য। জানা যায়, এম নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপ ওই রোগীর।
এটি ৪২তম রক্তের গ্রুপ সিস্টেম। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন এই গ্রুপটির নাম দিয়েছে। সাধারণত রক্তের কোষগুলিতে প্রায় ৩৪২টি অ্যান্টিজেন থাকে। এই অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতেই রক্তের গ্রুপগুলি ভাগ করা হয়। এই বিরল গ্রুপের রক্তে লোহিত কণিকার অ্যান্টিজেন নেই। চিকিৎসকদের কাছে এটি ‘আরএইচ-নাল’ (Rh-Null) নামে পরিচিত।
আমেরিকান রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, যে সমস্ত গ্রুপের রক্ত হাজার জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে থাকে সেগুলিকেই বলা হয় বিরল। সেই তালিকায় রয়েছে ও নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপও। কিন্তু এই গোল্ডেন ব্লাড রয়েছে গড়ে ৬০ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ১ জনের শরীরে।
দেখা মিলল Golden Blood-এর, দেশে এই রক্তের গ্রুপ রয়েছে মাত্র ৪৩ জনের শরীরে

এই গোল্ডেন ব্লাড প্রথম ধরা পড়েছিল ১৯৬১ সালে। একজন অস্ট্রেলিয়ান গর্ভবতী মহিলার রক্ত পরীক্ষা করা হয় তখন এই গোল্ডেন ব্লাডের কথা সামনে আসে। তথ্য বলছে, শেষ হিসেব অনুযায়ী সারা বিশ্বে মাত্র ৪৩ জন মানুষের দেহে এই গোল্ডেন ব্লাডের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। এই গ্রুপের ব্যক্তিরা অন্যকে রক্ত দিতে পারেন, কিন্তু কারও থেকে নিতে পারেন না। নিতে হলে গোল্ডেন ব্লাড গ্রুপের রক্তই চাই। তাই এই ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তিদের সব সময় সাবধানে চলতে হয়।



