নজরবন্দি ব্যুরো: শহরে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। একদিকে যেমন বাড়ছে সংক্রমণের হার, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। মশাবাহিত এই রোগের বলি আরও এক প্রাণ। গত শুক্রবার জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রৌঢ়। রক্তপরীক্ষা হলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় তাঁর। এলাকার মানুষেরা ক্ষুব্ধ, নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তাঁদের।
আরও পড়ুন: পুর শিক্ষা বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ! তৎকালীন চিফ ম্যানেজারকে চিঠি
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম পরেশ সাউ (৬৩)। ঠাকুরপুকুরের ১২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর বাঁচারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ২৯ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে নিউ আলিপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেদিনই তাঁর রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্টে জানা যায় ওই ব্যক্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। গতকাল অর্থাৎ সোমবার (২ অক্টোবর) মৃত্যু হয় পরেশ সাউয়ের। মৃত্যুর শংসাপত্রে চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু শকের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাঁচারপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকে। নিকাশি ব্যবস্থা নেই। অল্প বৃষ্টিতেই জোল জমে যায়। দু নম্বর বাঁচারপাড়া এলাকা মশা আঁতুড়ঘর হয়ে রয়েছে। এমনকি পুরসভা থেকে কোনও কাজই হচ্ছে না বলে অভিযোগ। সম্প্রতি নবান্নে স্বাস্থ্যকর্তাদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে চারটি উদ্বেগের বিষয় উঠে আসে। সেগুলির মধ্যে অন্যতম ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬ হাজারের বেশি, মৃত ৫০ ছুঁই ছুঁই, তবুও হুঁশ ফিরছে না সাধারণ মানুষের। এই অবস্থায় ক্রমশই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই দক্ষিণ দমদমের বাসিন্দা এক ২০ বছরের তরুণীর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। জানা যায়, মৃতের নাম সমাপ্তি মল্লিক। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। জ্বর নিয়ে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত শনিবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর।
শহরে ফের এক ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যু, সংক্রমণ বাড়লেও হুঁশ ফিরছে না মানুষের!




