ব্রিগেড ময়দানে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটি বিক্রি করায় আরামবাগের এক বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, ফের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগ উঠল। এবার ঘটনাস্থল ওডিশা। বড়দিনের আগে ফুটপাথে সান্টা ক্লজ়ের টুপি বিক্রি করায় দরিদ্র হকারদের ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তবে দৃশ্য অনুযায়ী, একদল ব্যক্তি হকারদের ঘিরে ধরে দাবি করেন—ওডিশা ‘হিন্দু রাষ্ট্র’, সেখানে খ্রিস্টান ধর্মের সঙ্গে যুক্ত কোনও সামগ্রী বিক্রি করা যাবে না। তাঁদের প্রশ্ন, বিক্রেতারা কোথা থেকে এসেছেন, তাঁরা হিন্দু কি না।
হকারদের বক্তব্য, তাঁরা হিন্দু হলেও গরিব মানুষ। বড়দিনের সময় সান্টা টুপির চাহিদা থাকে বলেই তা বিক্রি করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের জানানো হয়—“এটা ভগবান জগন্নাথের দেশ। এখানে তাঁর শাসন চলবে। হিন্দু হয়ে এসব বিক্রি করা চলবে না।” বিক্রি চালিয়ে যেতে হলে ভগবান জগন্নাথের সঙ্গে যুক্ত জিনিস বিক্রি করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
ভিডিয়োতে আরও শোনা যায়, বিক্রেতারা রাজস্থানের বাসিন্দা। তাঁদের বলা হয়, রাজস্থান থেকে এসে পণ্য বিক্রি করতে আপত্তি নেই—তবে খ্রিস্টান ধর্ম-সম্পর্কিত কোনও জিনিস বিক্রি করা যাবে না।
এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে জীবিকা রুখে দেওয়া কতটা সাংবিধানিক। ওডিশার মতো রাজ্যে এমন ঘটনার অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী জাতীয়তাবাদের উত্থান এই ধরনের ঘটনার পটভূমি তৈরি করছে।
নেটিজ়েনদের বড় অংশের যুক্তি—হকাররা যে ধর্মেরই হোন না কেন, তাঁরা পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে কাজ করছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “রাস্তার গরিব হকারদের হুমকি না দিয়ে বড় শপিং মল বা বিপণিতে গিয়ে বড়দিনের পণ্য বিক্রি বন্ধ করার চেষ্টা করুন।”
সমালোচকদের বক্তব্য, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সান্টা টুপি বিক্রির মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে দরিদ্র মানুষের উপর চাপ তৈরি করা অসাংবিধানিক ও অমানবিক। ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে প্রশাসনের ভূমিকা কী হয় এবং আদৌ কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর।




