জন্মসংখ্যা অনুযায়ী শনিদেবের প্রতিকার (Shani Dev Remedies) অনেকের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সংখ্যাতত্ত্ব (Numerology) অনুসারে প্রতিটি জন্মসংখ্যার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট গ্রহের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও ৮ সংখ্যার অধিপতি স্বয়ং শনিদেব, তবুও শনির দশা, অন্তর্দশা কিংবা সাড়ে সাতির প্রভাব অন্য জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের জীবনেও পড়তে পারে। তাই শনিবার কিছু বিশেষ নিয়ম পালন করলে জীবনের নানা বাধা কাটিয়ে শুভ ফল লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয় বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী জন্মসংখ্যা ১-এর অধিপতি সূর্য। সূর্য ও শনিদেবের সম্পর্ক শুভ নয় বলে অহংকার ও কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। শনিবার সকালে সূর্যদেবকে জল অর্পণ এবং সন্ধ্যায় শনিমন্দিরে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি পিতা বা পিতৃতুল্য ব্যক্তিদের সম্মান করলে ইতিবাচক ফল মিলতে পারে।
জন্মসংখ্যা ২-এর অধিপতি চন্দ্র। মানসিক অস্থিরতা কমাতে শনিবার শিবলিঙ্গে কাঁচা দুধ ও কালো তিল নিবেদন করা শুভ বলে মনে করা হয়। ধ্যান বা প্রাণায়াম করার পাশাপাশি অসহায় মহিলাদের সাহায্য করাও শুভ কর্ম হিসেবে বিবেচিত।
জন্মসংখ্যা ৩ বৃহস্পতির অধীন। এই সংখ্যার জাতক-জাতিকাদের শনিবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ছোলার ডাল, হলুদ বস্ত্র অথবা ধর্মীয় গ্রন্থ দান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অশ্বত্থ গাছের নীচে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রদক্ষিণ করাও শুভ ফলদায়ক বলে বিশ্বাস।
জন্মসংখ্যা ৪-এর অধিপতি রাহু। জীবনে আকস্মিক উত্থান-পতনের প্রভাব কমাতে শনিবার প্রতিবন্ধী বা অসহায় ব্যক্তিদের সাহায্য করা এবং পাখিদের খাদ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করাও উপকারী বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
জন্মসংখ্যা ৫-এর অধিপতি বুধ। এই জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের শনিবার সবুজ রঙের সামগ্রী বা মুগ ডাল দান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারও সঙ্গে প্রতারণা না করা এবং নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করলে কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশ্বাস।
জন্মসংখ্যা ৬ শুক্রের অধীন হওয়ায় বিলাসিতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। শনিবার দরিদ্রদের সুগন্ধি, সাদা মিষ্টি অথবা পোশাক দান করলে শুভ ফল মিলতে পারে। পাশাপাশি নারীদের সম্মান করার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জন্মসংখ্যা ৭-এর অধিপতি কেতু। মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে শনিবার কালো কুকুরকে তেল মাখানো রুটি খাওয়ানো এবং অনাথ আশ্রম বা বৃদ্ধাশ্রমে কম্বল বা ওষুধ দান করার কথা বলা হয়েছে। এতে শনিদেবের আশীর্বাদ লাভ হতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
জন্মসংখ্যা ৮-এর অধিপতি স্বয়ং শনিদেব। তাই এই জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের জন্য শনিবার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উপবাস পালন, নিরামিষ আহার, শনি চালিশা পাঠ এবং শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে শুভ ফল লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
জন্মসংখ্যা ৯-এর অধিপতি মঙ্গল। অতিরিক্ত রাগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের প্রধান করণীয়। শনিবার হনুমান চালিশা বা বজরংবাণ পাঠ এবং হনুমানজিকে সিঁদুর ও চামেলির তেল নিবেদন করলে শনির অশুভ প্রভাব কমতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এই সমস্ত প্রতিকার জ্যোতিষশাস্ত্র ও সংখ্যাতত্ত্বের প্রচলিত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। এগুলির কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধর্মীয় আস্থার ভিত্তিতে এই নিয়মগুলি পালন করা যেতে পারে।



