Benefits of crying: শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, প্রাণখোলা হাসি যে শরীরের জন্য উপকারী, সে কথা নিশ্চয়ই অনেক বার শুনেছেন। কিন্তু জানেন কি হাসির পাশাপাশি কান্নাও স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। শৈশবেই হোক বা পরিণত বয়সে হোক, আমরা কেঁদে ফেলি মূলত চারটি কারণে। খুব দুঃখ পেলে। খুব রেগে গেলে। গভীর ভালবাসায় হৃদয় টলমল করে উঠলে। আর গভীর আনন্দে। এই আনন্দের কান্নাকে আমরা বলে থাকি আনন্দাশ্রু! যে কারণেই আমরা কাঁদি না কেন, এই কান্না শরীর-স্বাস্থ্যের উপকারই করে।

আরও পড়ুনঃ কংগ্রেসের বিজয় মিছিলে বিজেপির হামলা, ফলাফলের দিনেও রক্তাক্ত ত্রিপুরা

আমাদের সমাজে ছেলেদের কাঁদা নিষেধ। শৈশব থেকেই শেখানো হয় চোখের জল ফেলতে পারে মেয়েরা। ছেলেরা নয়। বিশেষজ্ঞদের মত, কান্না আমাদের আবেগের প্রকাশ৷ মানসিক দুর্বলতা কিন্তু নয়। চোখের জলের উপর আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। হাসার মতো কাঁদাও শারীরিক ও মানসিক উন্নতির জন্য দরকার।

শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

এবার জেনে নেই কিভাবে কান্না আমাদের উপকার করে…

স্ট্রেস বা চাপ কমায় : স্যাক্রেমেন্টোতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলড্রেন্স হসপিটালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সেজ টিম্বারলিনের কথায়, দুঃখে হোক বা রাগে অথবা অনুরাগে কিংবা আনন্দে, আমাদের মনের স্বাভাবিক অবস্থার উপর একটা চাপ (স্ট্রেস) তৈরি হয়। যা হলো বাড়তি চাপ। সেই বাড়তি চাপটা কমিয়ে ফেলাটাই তখন মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে আমাদের শরীরের। চোখের জল শরীরের সেই বাড়তি চাপটা কমিয়ে ফেলে আমাদের স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে আনে।

চোখ সুস্থ ও সবল রাখে : চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁদলেই আমরা কিছুটা স্বাভাবিকতায় ফিরে আসি। সেই স্বাভাবিকতা যে শুধুই আমাদের শরীর আর মনের, তা-ই নয় ওই সময় স্বাভাবিকতায় ফিরে আসতে বেরিয়ে আসা চোখের জলই চোখকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে, চোখকে ভিজিয়ে রেখে।

শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

বাড়তি হরমোন নিঃসরণ করে : আমাদের শরীরের যে কোন অনুভূতির পেছনেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের হরমোনের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া। তাই বিভিন্ন ধরনের হরমোনের নিঃসরণের জন্যই আমরা দুঃখ পেলে কাঁদি, আবেগে কাঁদি আবার আনন্দেও কেঁদে ফেলি। দুঃখ, আবেগ বা আনন্দে আমাদের শরীর ও মনে যে বাড়তি চাপটা তৈরি হয়, তা হয় মূলত বিভিন্ন ধরনের হরমোনের নিঃসরণের দরুন। তাই কান্না শরীরে সৃষ্টি হওয়া হরমোনের বাড়তি নিঃসরণকে শরীর থেকে বের করে দিয়ে শরীরে হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে।

চোখ পরিষ্কার করে : কান্নার সময় চোখের জল আমাদের চোখের মণি আর চোখের পাতা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেয়। এটি আমাদের চোখকে জলশূন্যতা থেকেও বাঁচায়। ফলে চোখ পরিষ্কার রাখতে আর দৃষ্টি পরিষ্কার করতে সাহায্য করে কান্না।

শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

ব্যাকটেরিয়া দূর করে : চোখের জলে থাকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দূর করার উপাদান। রাস্তা-ঘাটে, বাসে-ট্রেনের ধুলো-বালি থেকে সারাদিনে চোখের ভেতর কত ময়লাই না জমা হয়। এগুলো থেকে নানা জীবাণু আমাদের চোখের বাসা বাঁধতে পারে। কিন্তু চোখের জল এসব ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের জীবাণু ধ্বংসে খুবই কার্যকর। চোখের জলে থাকা আইসোজাইম মাত্র ৫-১০ মিনিটেই চোখের প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে পারে।

মন ভাল রাখে : কান্না মনের কষ্ট দূর রে মন হালকা করে থকে। আবেগপ্রবণ কান্নাতে এনডোরফিন নামক উপাদান নিঃসৃত হয় যা দুশ্চিন্তা দূর করে থাকে। তাই মন খারাপের সময় কাঁদুন, দেখবেন মন অনেকখানি ভাল হয়ে গেছে। বয়স্করা অনেক সময় কান্না চাপিয়ে রাখেন। কিন্তু কান্না আপনার মন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই কান্নাকে চেপে না রেখে কেঁদে ফেলুন।

শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

শুধু হাসি নয়, সুস্থ থাকার জন্য দরকার কান্নাও, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

চোখের জলের মাধ্যমেও টক্সিন বেরিয়ে যায় শরীর থেকে৷ আবেগের প্রভাবে কান্নার সময় শরীরে স্ট্রেস হরমোন নির্গত হয়৷ ফলে মানসিক উদ্বেগ বা স্ট্রেস কমে যায় অনেকটাই৷ কাঁদলে মনের ভার সহজেই লাঘব করা যায় ৷ এর ফলে মন বেশ হাল্কা লাগে আবেগতাড়িত অশ্রুর পাশাপাশি আমাদের চোখে অন্যান্য জলীয় অংশ থাকে৷ এই জলীয় অংশ বা বেসিক টিয়ার্সের ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায় না৷ আর্দ্র চোখে সংক্রমণের আশঙ্কাও কম হয়৷