মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তর ভারতের বড় অংশ। সিকিমকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কম্পনের রেশ ছড়িয়ে পড়ে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, তিব্বত ও চিনের কিছু এলাকাতেও। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ধারাবাহিক কম্পন অনুভূত হলেও কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে এক রাতেই একাধিক অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৯ মিনিটে সিকিমে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। গালসিং এলাকাকে কেন্দ্র করে ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে রিখটার স্কেলে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ধরা পড়ে। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে গ্যাংটক সংলগ্ন এলাকাতেও ফের কম্পন হয়। এরপর গ্যাংটক, মঙ্গন, নামচি-সহ সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত মোট ১২টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও সেগুলির তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখনও পর্যন্ত সিকিমে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিকিমের পর কম্পনের প্রভাব পড়ে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়। তার ১৬ মিনিট পর উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরে ৩.৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। একই সময়ে চিনের জিনজিয়াং এবং তিব্বতের কিছু অংশেও মৃদু কম্পন লক্ষ্য করা গেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোনও ক্ষেত্রেই তীব্রতা মারাত্মক ছিল না।
উল্লেখ্য, এর আগেই মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রাত ৯টা ৫ মিনিট নাগাদ প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে কম্পনে কেঁপে ওঠে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। পরে জানা যায়, মায়ানমারে রিখটার স্কেলে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, যার উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে, আকিয়াব শহর থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে। বৃহস্পতিবারও মায়ানমারের কিছু অংশে মৃদু কম্পনের খবর পাওয়া যায়।



