আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি চান সারা দেশে আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি এও দাবি করেছেন যে, গোমাংস বিক্রি ও খাওয়ার উপর একযোগিতার জন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাঁর এই বক্তব্য প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়ে আলোচনার সময় উঠে আসে, যা উত্তরাখণ্ডে চালু হয়েছে।
শত্রুঘ্নের দাবি: আমিষ খাবার নিষিদ্ধ হোক দেশে


মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, “শুধু গোমাংসই নয়, সারা দেশে সব ধরনের আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করা উচিত।” তিনি আরো বলেন, “গোমাংস বিক্রির বিষয়ে নানা জায়গায় আইনি বাধা রয়েছে, তবে কিছু স্থান এখনও এর বিক্রিতে বাধা দেয় না। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গোমাংস খাওয়া এখনো প্রচলিত, যা উত্তর ভারতের তুলনায় একেবারেই আলাদা।”
উত্তর-পূর্ব বনাম উত্তর ভারত:
শত্রুঘ্ন সিনহা মন্তব্য করেন, “উত্তর-পূর্বে গোমাংস খেলে ‘ইয়াম্মি’, আর উত্তর ভারতে খেলে ‘মাম্মি’—এটা ঠিক নয়। আমাদের দেশে এক ধরণের আইন থাকা উচিত যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।” তাঁর মতে, দেশের একতা রক্ষায় প্রয়োজন অভিন্ন আইন, এবং যে আইন উত্তর ভারতের জন্য প্রযোজ্য, সেটি উত্তর-পূর্বের জন্যও হতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান:


তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বলেছেন, “ভারতের প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব বৈচিত্র্য রয়েছে। কিছু মানুষ আমিষ খান, কিছু মানুষ নিরামিষাশী। ভারত একতা ও বৈচিত্র্যের দেশ।” মমতার এই বক্তব্য শত্রুঘ্নের মন্তব্যের বিপরীতে, যেখানে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য একক আইন প্রণয়ন করার পক্ষে।
ইউসিসি নিয়ে শত্রুঘ্নের বক্তব্য
গত ২৭ জানুয়ারি উত্তরাখণ্ডে চালু হওয়া অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি নিয়ে তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, “এটা একটি ভাল পদক্ষেপ, তবে এটি বাস্তবায়ন করার আগে সবার সাথে আলোচনা করা উচিত।” শত্রুঘ্নের মতে, ইউসিসি আইন কার্যকর করার আগে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা উচিত, যাতে সবার মতামত নেওয়া যায়।
গুজরাটেও ইউসিসি বাস্তবায়ন হতে পারে:
ইউসিসি নিয়ে শত্রুঘ্ন আরো বলেন, “গুজরাটও এই পথ অনুসরণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখানে সক্রিয়।” তিনি জানান, ইউসিসি প্রয়োগের সময় আইনি ফাঁকফোকর থাকতে পারে, তাই এই আইনের পুরো দিকটি খতিয়ে দেখতে হবে।
উত্তরাখণ্ডের নতুন বিধি:
উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে শত্রুঘ্ন বলেছেন, “এমন আইন চালু হলে সমস্ত দেশে সমান নিয়ম থাকতে হবে। তবে, আইনের বাস্তবায়ন কঠিন এবং গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন।”
শত্রুঘ্ন সিনহার এই মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সারা দেশে ইউসিসি ও আমিষ খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক বাড়তে পারে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতিগত বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি ও শত্রুঘ্ন সিনহার একক জাতির জন্য একীভূত আইন প্রণয়নের পক্ষে মনোভাব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।







