ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জোট-সমীকরণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যাচ্ছে না বামফ্রন্ট—এ কথা কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, বামেদের রণকৌশল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও আসন সমঝোতা নেই—রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না হলে জোটও হবে না।
এসআইআর ইস্যুতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তারই মধ্যে জোট-জল্পনায় জল ঢেলে সেলিম জানান, বামফ্রন্টের ভেতরকার আলোচনা প্রায় শেষ, এখন বাইরের বাম দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, “অন্যের সঙ্গে কথা বলার আগে নিজের ঘর গোছাতে হয়। আগে সিপিএম, তারপর বামফ্রন্ট—এই পথেই এগোচ্ছি।”


বামফ্রন্টের ভিতরে-বাইরে কী ছবি?
সেলিমের দাবি, পুজোর পর থেকে বামফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে চার দফা বৈঠক হয়েছে এবং আলোচনা ফাইনাল স্টেজে। বামফ্রন্টের বাইরে থাকা বাম দলগুলির সঙ্গেও কথা চলছে। তিনি জানান, সিপিআই(এমএল) লিবারেশন বামফ্রন্টে না থাকলেও সহযোগী হিসেবে বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী লড়াইয়ে সমর্থন দেবে—আসন সমঝোতা পরের বৈঠকেই চূড়ান্ত হতে পারে।
আইএসএফ নিয়ে সমঝোতা
বামফ্রন্টের বাইরে আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF)। সেলিম বলেন, আইএসএফ নীতিগতভাবে বামেদের সঙ্গেই লড়তে সম্মত। শর্ত একটাই—ইস্যুভিত্তিক বিজেপি-তৃণমূল বিরোধিতা। কে আসবে, কে আসবে না—এ নিয়ে কোনও শর্ত নেই।
কংগ্রেস নিয়ে সাফ কথা
কংগ্রেস প্রসঙ্গে সেলিমের বক্তব্য আরও কঠোর। তাঁর অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে এসে অবস্থান বদলানো কংগ্রেসের অভ্যাস। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষার সময়সীমা থাকলেও কংগ্রেসের তরফে স্পষ্ট বার্তা আসেনি। উলটে তিনি ইঙ্গিত দেন, কংগ্রেসের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে আসন সমঝোতার চেষ্টা করছে—যা বামেদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।


সেলিম বলেন, “বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতা চাইলে আগে রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে—বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, খেটে-খাওয়া মানুষের পক্ষে। এই অবস্থান না থাকলে জোট হবে না।” পাশাপাশি তিনি জানান, যারা চাপ-প্রলোভন সত্ত্বেও তৃণমূলে যাননি—সেই কংগ্রেস কর্মীদের মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, বামেদের বার্তা স্পষ্ট—ছাব্বিশে লড়াই হবে বাম নেতৃত্বাধীন, কংগ্রেস ছাড়াই।








