নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভিতরে দলনেত্রী-বাইরে দলীয় কর্মীরা, সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে রাজ্যের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে নিজাম প্যালেস। সেখানেই রয়েছেন গ্রেপ্তার হয়া ৪ জন নেতা মন্ত্রী, বিধায়ক-প্রাক্তন বিধায়ক। দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক মদন মিত্রের গ্রেপ্তারির পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজাম প্যালেসে বসে রয়েছেন তখনই বাইরে কর্মী সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বাইরে কড়া রোদে।
আরও পড়ুনঃ আইন ব্যবস্থা ভাঙলে ফলাফল ভেবে রাখুন, মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্যুইট রাজ্যপালের
আজ রাজ্যে সরকার ঘোষিত লকডাউনের দ্বিতীয় দিন। তার মাঝেই ধুন্ধুমার রাজ্য জুড়ে। আজ সকালেই মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়ে যাওয়া হয় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও। নিজাম প্যালেসেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় অ্যারেস্ট মেমো। আজই আদালতে তোলা হবে ৪ জনকেই। সূত্রের খবর, চার্জশিটের বয়ান ঠিক করে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে গ্রিন সিগন্যাল আসার পরেই সাতসকালে তড়িঘড়ি গেপ্তার করা হয়েছে। তার পর থেকেই কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা তৃণমূল। দিকে দিকে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ।
গ্রেপ্তারির জেরে অশান্তির আশঙ্কায় আগেই গোটা নিজাম প্যালেসের দখল নিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর বেলা গড়াতেই দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সিবিআই দপ্তর। আর এবার ক্ষোভের মধ্যেই ধস্তাধস্তি শুরু হল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা ইটি বৃষ্টি শুরু করলেন বাহিনীকে লক্ষ্য করে। তাতে আরও উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি।
রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থানের পর বাহিনীর সঙ্গে বচসা, ধাক্কাধাক্কি হয় বিক্ষোভকারীদের। মুহুর্মুহু নিজাম প্যালেসের ভিতর ধেয়ে আসে পাথর। ছোড়া হয় বোতল, জুতো।কখনও গেট ধরে টানাটানি করে, কখনও লাথি মেরে গেট ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন তৃণমূল কর্মীরা। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নিজাম প্য়ালেস চত্বর। শেষে ধৃতদের আদালতে পেশ করার বদলে ভার্চুয়াল শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
ভেতরে নাছোড় মুখ্যমন্ত্রী বসে আছেন এখনো, সকালেই তিনি CBI কে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছিলেন, তাঁকেও গ্রেপ্তার করতে হবে, নিজের কথায় অনড় মমতা এখনো নিজাম প্যালেসেই। অন্যদিকে বাইরে জমা হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কর্মী সমর্থকেরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই মমতাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজভবন থেকে একের পর এক ট্যুইট করছেন রাজ্যপাল। সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে গোটা রাজ্যের চোখ নিজাম প্যালেসের দিকেই।



