রাত পোহালেই নীলষষ্ঠী! এই সময়েই জ্বালান নীলের বাতি, জানুন পূজার নিয়ম

১৩ এপ্রিল নীলষষ্ঠীতে বিকেল ৫:০২ থেকে সন্ধ্যা ৭:১৫—এই সময় নীলের বাতি জ্বালানো শুভ; শিবপুজোয় দুধ, গঙ্গাজল, বিল্বপত্র ও আকন্দফুল নিবেদন অপরিহার্য

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চৈত্রের শেষ লগ্নে বাংলার ঘরে ঘরে ভক্তি আর আচার মিলিয়ে শুরু নীলষষ্ঠীর প্রস্তুতি। সন্তানের মঙ্গলকামনায় পালন করা এই ব্রতকে ঘিরে আবেগ, বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়। এবছর বিশেষ তাৎপর্যও রয়েছে—কারণ নীলষষ্ঠীর দিনেই পড়েছে একাদশী তিথি, ফলে পূজার মাহাত্ম্য আরও বেড়েছে।

এ বছর ১৩ এপ্রিল, সোমবার পালিত হবে নীলষষ্ঠী। শাস্ত্র মতে, এই দিনে দেবাদিদেব শিব-এর সঙ্গে পূজিত হন বিষ্ণু-ও। মায়েরা সারাদিন উপবাস রেখে সন্তানের কল্যাণ কামনা করেন এবং সন্ধ্যায় শিবপুজোর মাধ্যমে ব্রত সম্পূর্ণ করেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ‘নীলের বাতি’ প্রজ্বলন। জ্যোতিষ মতে, এবছর এই বাতি জ্বালানোর শ্রেষ্ঠ সময় বিকেল ৫টা ২ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে প্রদীপ জ্বালালে সন্তানের মঙ্গল ও সুস্থতার আশীর্বাদ লাভ হয় বলে বিশ্বাস।

ব্রতের নিয়ম অনুযায়ী, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করা হয়। বিকেলে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে পুজো করা হয়। দুধ, গঙ্গাজল, মধু ও নারকেলের জল দিয়ে অভিষেক করা বিশেষভাবে শুভ বলে মনে করা হয়।

পুজোর উপকরণেও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। শিবপুজোয় অবশ্যই লাগে আকন্দফুল ও বিল্বপত্র। এছাড়া পাঁচ রকম ফল নিবেদন করা হয়, যার মধ্যে বেল বা শ্রীফল থাকা আবশ্যক। সন্ধ্যায় ঘিয়ের প্রদীপ বা মোমবাতি জ্বালিয়ে ‘নীলের বাতি’ দেওয়া হয়—যা এই ব্রতের মূল আচার।

অনেক ভক্তই চৈত্র মাসজুড়ে সন্ন্যাস ব্রত পালন করেন, যার সমাপন ঘটে এই নীলষষ্ঠীর মধ্য দিয়েই। তাই শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।

সব মিলিয়ে, নীলষষ্ঠী শুধু একটি ব্রত নয়—এটি মায়েদের বিশ্বাস, সন্তানের জন্য প্রার্থনা আর বাংলার চিরন্তন লোকাচারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন