FIFA World Cup 2026: কেপ ভার্দের রূপকথার ইতি, মেসির আর্জেন্টিনার কষ্টের জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত

FIFA World Cup 2026-এ কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, হারলেও প্রশংসা কুড়াল ভোজিনহাদের লড়াই।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা (Argentina) শেষ পর্যন্ত জিতল, কিন্তু আলো কেড়ে নিল ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে (Cape Verde)। FIFA World Cup 2026-এর মায়ামি (Miami) ম্যাচে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-দের বিরুদ্ধে দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিলেও ভোজিনহাদের লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার। কোচ লিওনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni) লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্টিনেজ (Lautaro Martinez)-কে সামনে রেখে আক্রমণ সাজালেও কেপ ভার্দের ঘন রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়। উইং আক্রমণ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় প্রথমার্ধে খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

তবে বড় ম্যাচের বড় ফুটবলারের মতোই নিজের ছাপ রাখেন লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (Lisandro Martinez)-এর নিখুঁত ক্রস নিয়ন্ত্রণে এনে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপের এই আসরে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ২০-এ।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি কেপ ভার্দে। দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক দলকে দেখা যায়। বলের দখল রেখে ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে ফেলে দেয় আর্জেন্টিনাকে। ৬০ মিনিটে ডেরোয়ে ডুয়ার্তে (Deroy Duarte) বক্সের ভিতর থেকে জোরালো শটে গোল করে সমতা ফেরান। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই গোল যেন তাদের সাহসের প্রতীক হয়ে ওঠে।

ম্যাচের অন্যতম নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha)। একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি বারবার হতাশ করেন মেসি ও তাঁর সতীর্থদের। দ্বিতীয়ার্ধে মেসির ফ্রিকিক থেকে শুরু করে একান্ত মুখোমুখি পরিস্থিতিতেও দুর্দান্ত সেভ করে কেপ ভার্দেকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন অভিজ্ঞ এই গোলকিপার।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটের পরপরই কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে আবার আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। কিন্তু কেপ ভার্দে আবারও হাল ছাড়েনি। সিডনি লোপেজ কাব্রাল (Sidney Lopes Cabral)-এর অসাধারণ কার্লিং শট এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (Emiliano Martinez)-কে পরাস্ত করে ম্যাচে ফের ২-২ সমতা আনে।

ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই ভাগ্য মুখ ফিরিয়ে নেয় কেপ ভার্দের। ১১১ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (Cristian Romero)-র হেড ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিনে (Dine)-র গায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে পড়ে। আত্মঘাতী সেই গোলই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।

যদিও স্কোরলাইন আর্জেন্টিনার পক্ষে, ম্যাচের গল্পটা অন্য। শেষ মুহূর্তে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের একাধিক অসাধারণ সেভ না থাকলে হয়তো বিদায় নিতে হত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরই। একই সঙ্গে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা নকআউট পর্বে বড় চিন্তার কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, কেপ ভার্দে ট্রফি জিততে পারেনি, শেষ ষোলোতেও উঠতে পারেনি। তবু তাদের নির্ভীক ফুটবল, লড়াইয়ের মানসিকতা এবং ভোজিনহার অনবদ্য পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে—ফুটবলের সৌন্দর্য শুধু জয়ে নয়, অসম লড়াইয়েও লুকিয়ে থাকে। এই হার হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেক ছোট দেশের জন্য অনুপ্রেরণার পথ তৈরি করে দিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন