চূড়ান্ত সাফল্যের পথে ব্রিটেন। জোড়া অ্যান্টিবডি যুক্ত করোনার ওষুধ বানাল অক্সফোর্ড।

চূড়ান্ত সাফল্যের পথে ব্রিটেন। জোড়া অ্যান্টিবডি যুক্ত করোনার ওষুধ বানাল অক্সফোর্ড।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ চূড়ান্ত সাফল্যের পথে ব্রিটেন। জোড়া অ্যান্টিবডি যুক্ত করোনার ওষুধ বানাল অক্সফোর্ড। করোনাকে কাবু করতে জোরকদমে বিশ্বজুড়ে চলছে গবেষনা । রাশিয়া , অক্সফোর্ড এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতেও চলছে কাজ। কিন্তু বাদ সাধছে ট্রায়াল। এরইমাঝে জোড়া অ্যান্টিবডি দিয়ে করোনার বানাল অক্সফোর্ড। ট্রায়ালে আশাপ্রদ ফল পাওয়ার কথা ভাবছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুনঃ উচ্চপ্রাথমিক নিয়োগ মামলার শুনানি। আজ কি হল হাইকোর্টে? #Exclusive

গবেষকদের দাবি , ভাইরাস মোকাবিলায় মানুষের শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তার মধ্যে দুটি অ্যান্টিবডিকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এই জোড়া অ্যান্টিভাইরাল অ্যান্টিবডির মিশ্রণে ককটেল ড্রাগ তৈরি হয়েছে, যার নাম রিজেনারেশন-কভ২ (REGN-COV2) । এই অ্যান্টিবডি ককটেলের সেফটি ট্রায়ালে ভাল ফল পাওয়া গেছে বলে দাবি। হাসপাতালে ভর্তি সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীদের উপর এই ড্রাগের প্রয়োগ করা হবে।

তিন পর্যায়ের ট্রায়াল শেষে রিপোর্ট সামনে আনা হবে । ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস)তত্ত্বাবধানে এই ওষুধ তৈরি করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং রিজেনারেশন ফার্মাসিউটিক্যাল। অক্সফোর্ড জানিয়েছে, করোনার বৃহত্তর রিকভারি ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে ব্রিটেনে। অন্যান্য ওষুধের মধ্যে এই অ্যান্টিবডি থেরাপিও করা হবে। জোড়া অ্যান্টিবডি দিয়ে এমন ওষুধ তৈরি হয়েছে যা আরএনএ সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবে বলেই দাবি অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্টদের।

অক্সফোর্ড বলছেন, ওপেন লেভেল ট্রায়াল হবে এই অ্যান্টিবডি-ককটেলের। বহু রুগীর ওপর এই থেরাপি করা হবে এবং তারাও জানতে পারবে ট্রায়ালের কোন স্তরে তারা রয়েছেন। অক্সফোর্ডের ইমার্জিং ইনফেকসিয়াস ডিজিজের অধ্যাপক ও এই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের চিফ ইনভেস্টিগেটর পিটার হর্বে বলেছেন, এতদিন ডেক্সামিথাসোনের থেরাপি করা হচ্ছিল । তবে করোনায় মৃত্যুহার বাড়তে থাকায় বিকল্প পথের খোঁজ করা হয়। স্টেরয়েডের বদলে সরাসরি অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

রিজেনারেশন-কভ২ তেমনই একটি সম্ভাব্য ওষুধ যার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে। এই অ্যান্টিবডি-ককটেল সুরক্ষিত ও নিরাপদ বলেই দাবি করেছেন তিনি। অন্যদিকে ডেপুটি চিফ ইনভেস্টিগেটর মার্টিন ল্যান্ড্রের দাবি, REGN-COV2 ড্রাগ খুব সহজেই প্রয়োগ করা যাবে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই । তিনি আরও বলেছেন, যখন কোনও সংক্রামক রাসায়নিক উপাদান যেমন ব্যাকটেরিয়া, প্যাথোজেন বা ভাইরাল প্রোটিন শরীরে ঢুকে আসে, তখন তার প্রতিরোধে দেহকোষে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয় শ্বেত রক্তকণিকায় (White Blood Cells) ।

এই অ্যান্টিবডি মূলত তৈরি করে ‘বি লিম্ফোসাইট’ কোষ যাকে বি-কোষ (B Cells) বলে। অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই বি-কোষ তার অনেকগুলো প্রতিলিপি তৈরি করে ফেলে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ক্লোনিং’ । এমন অজস্র কোষ থেকে লক্ষ লক্ষ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় রক্তরসে। গবেষকরা বলছেন, একসঙ্গে বহুসংখ্যক অ্যান্টিবডি বা ‘পলিক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ রক্ত থেকে ছেঁকে বার করার প্রক্রিয়া অনেক জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।

সেক্ষেত্রে একটি মাত্র বি-কোষ শনাক্ত করে তার থেকে তৈরি অ্যান্ডিবডি স্ক্রিনিং করে নেওয়া অনেক সহজ। এই অ্যান্টিবডিকে বলে ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ । আর এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়েই গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যা করোনা চিকিৎসাই যুগান্তকারী ঔষধ হবে। ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা ইতিমধ্যেই ক্লোনড অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা করছে। গবেষকদের দাবি, অ্যান্টিবডি সরাসরি রোগীর দেহকোষে ইনজেক্ট করতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে শরীরে। জোড়া অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করার উদ্দেশ্য হল, যদি একটি অ্যান্টিবডিকে কব্জা করে ফেলে ভাইরাল প্রোটিন তাহলে অন্য অ্যান্টিবডি সেখানে মোকাবিলা করবে।

চূড়ান্ত সাফল্যের পথে ব্রিটেন। খুব তাড়াতাড়ি ক্লোনড অ্যান্টিবডি ইঞ্জেকশনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে বলে জানিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকা। অন্যদিকে ইজরায়েলও মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। ইজরায়েল ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা জানিয়েছেন এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে। ‘জেরুসালেম পোস্ট’-এ এই গবেষণার কথা জানিয়েছিল আইআইবিআর। এখন সাধারণ মানুষদের কাছে খুশির খবর যে খুব তাড়াতাড়ি বাজারে আসতে চলেছে করোনার টীকা। এখন শুধু আর কিছুদিনের অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x