নেতাজিকে অসম্মানে কড়া ব্যবস্থা, অবশেষে পুলিশকে নির্দেশ শুভেন্দুর, অনন্ত মহারাজকে ঘিরে বাড়ল চাপ

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অপমানজনক বা মিথ্যা প্রচার করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর। অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ, নজর সেদিকে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhas Chandra Bose) নিয়ে আপত্তিকর, মিথ্যা বা অপমানজনক প্রচার বরদাস্ত করা হবে না। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে পুলিশকে এমনই কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, তা নিয়ে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। বিজেপি সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয়েছে।

এই আবহেই বুধবার নবান্ন থেকে পুলিশকে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজিকে নিয়ে অপমানজনক বা মিথ্যা প্রচার করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে হবে। শুধু পোস্ট মুছে ফেললেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, যাঁরা এই ধরনের পোস্ট করেছেন তাঁদের অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে নতুন পোস্ট করতে হবে এবং আপত্তিকর পোস্ট সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে পোস্ট মুছে ফেললেও পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই বিষয়ে পুলিশকে স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক ভাবে কতটা প্রভাবশালী বা কোন দলের সঙ্গে যুক্ত, তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমনই বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। পুলিশকে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশের পরেই স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠছে, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও কি এবার পুলিশ সরাসরি পদক্ষেপ করবে? তবে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন তাঁর নাম করে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির গ্রেফতারের নির্দেশ দেননি। ফলে এখনই অনন্ত মহারাজ গ্রেফতার হবেন—এমন কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।

অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্রপাত হয় নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা নিয়ে তাঁর বক্তব্য থেকে। তিনি নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ সম্পর্কেও বিতর্কিত দাবি করেন। সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

শুধু বিরোধী দল নয়, বিজেপির অন্দরেও এই মন্তব্য নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। প্রবীণ বিজেপি নেতা তথাগত রায়ও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, নেতাজিকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তির উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতিমধ্যে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে অভিযোগ দায়ের হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের নির্দেশের পর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার বিধায়ক সেবা কেন্দ্রগুলির নাম ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে একদিকে নেতাজির নামে সরকারি উদ্যোগ, অন্যদিকে তাঁকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া অবস্থান—দুই ঘটনাই একই সময়ে রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

তবে আইনি ভাবে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, প্রমাণ এবং তদন্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগে তদন্ত কতদূর এগোয় এবং বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়—এখন নজর সেদিকেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন