নেপালে ছাত্র-যুব বিদ্রোহ ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। রাজধানী কাঠমান্ডু ও আশপাশের শহরগুলোতে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের গুলিচালনায় ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১ জন। আহত হয়েছেন চার শতাধিক। এই পরিস্থিতিতেই সেনাপ্রধানের চাপের মুখে অবশেষে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় সেনা হেলিকপ্টারে। অন্যদিকে মন্ত্রীপরিষদের একাধিক সদস্য আগেই ইস্তফা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর কৃষিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীও পদত্যাগ করেন।


নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কেপি শর্মা ওলি

রাজপথে আগুন, ভাঙচুর আর কার্ফু
বিক্ষোভকারীদের হাতে টায়ার জ্বালানো, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, টানা কার্ফুর মতো ঘটনায় রাজধানী অগ্নিগর্ভ। কাঠমান্ডু ও ললিতপুরে মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি ও আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটেছে। নেপালের আইনমন্ত্রী অজয় চৌরাসিয়ার বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেলেছে জনতা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডর বাসভবনও আক্রমণের শিকার হয়।
জেন Z-র প্রবল আন্দোলন নেপালকে কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।
ভারত-নেপাল সীমান্তে প্রভাব
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির আঁচ এসে পৌঁছেছে ভারত-নেপাল সীমান্তে। শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত তিন দিন ধরে বন্ধ। এপারে আটকে রয়েছে শতাধিক ভারতীয় ট্রাক। সোমবার এক ভারতীয় চালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আতঙ্কে ট্রাকচালকরা নেপাল থেকে ভারতে ফিরে আসেন। সীমান্ত লাগোয়া এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে অর্থনীতি মার খাচ্ছে।


বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো কি নেপালও অশান্ত?
২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিক্ষোভের মতোই পরিস্থিতি নেপালে তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ এবার নেপাল ঘিরে ধরেছে। ভারতও সতর্ক দৃষ্টিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তরুণদের বিদ্রোহের কাছে নেপালের ওলি সরকার শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করল। প্রশ্ন উঠছে—এই অস্থিরতা কতদিন চলবে এবং এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে কীভাবে পড়বে।








