নজরবন্দি ব্যুরোঃ রুপোলি পর্দার সাদা-কালো যুগে টালিগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত ৩৮, গল্ফ ক্লাব রোড অধুনা ৫০,উদয়শঙ্কর সরণি তে অবস্থিত “ফিল্ম সার্ভিসেস” বরণীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদায় ভূষিত হয়। এই সংস্থার প্রধান পুরুষ প্রমথনাথ রায় ছিলেন কলকাতা পৌরসংস্থার স্বীকৃত ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তাঁর কর্মজীবনে কলকাতার অনেক নির্মাণ কাজের সঙ্গে পেশাগত কারণে যুক্ত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ মীনাক্ষী এখন অতীত! নতুন প্রেমকে স্বীকৃতি দিলেন দুর্নিবার
পরবর্তী পর্যায়ে বন্ধু বীরেন্দ্রনাথ সরকারের সহযোগে ” নিউ theatres স্টুডিও নির্মাণে অংশীদার হন এবং চলচ্চিত্র সম্পাদনা ও ল্যাব( ফিল্ম সার্ভিসেস) গড়ে তোলেন। এখানেই তিনি আজীবন ছিলেন। এই বাড়িতে একসময় পারিবারিক কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে খ্যাতিমান শিল্পী উদয়শঙ্কর থাকতেন। চলচ্চিত্র সম্পাদক রমেশ যোশীও থাকতেন। এই প্রতিষ্ঠানে পদধূলি পরেছে বাংলা স্বর্ন যুগের সোনালী নক্ষত্রের। এসেছেন সত্যজিৎ রায়, বিভূতি লাহা, অজয় কর ও অনেক খ্যাতিমান ব্যাক্তিত্বের। এরকম একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান অবহেলিত উন্নাসিক কতিপয় বঙ্গজনের জন্য ।”

ফিল্ম সার্ভিসেসের” সঙ্গে যে ব্যাক্তিরা জড়িত আছেন,তাঁদের সঙ্গে অকৃতদার প্রমথনাথ রায়ের কোনও পারিবারিক ও সামাজিক যোগ নেই। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি এদের কোনো দায়বদ্ধতাও নেই।প্রমথনাথ রায়ের নামাঙ্কিত ট্রাস্টের পরিকল্পনা এযাবৎ বাস্তবায়িত হয়নি। কেননা, আগেই বলেছি,এই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্তদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। গল্ফ ক্লাব রোডে বিখ্যাত অভিনেতা অনিল চ্যাটার্জি থাকতেন।

জীবনের অনেকটা সময় অতিবাহিত করেছেন সংগীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকা। ছিলেন অভিনেতা তাপস পাল ও আরও খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। অথচ আশ্চর্য্যের বিষয়। যে মানুষদের সঙ্গে প্রমথনাথ রায়ের কোনোরকম যোগসূত্র নেই,সেই অর্বাচীন রা হয়ে গেলেন ‘ফিল্ম সার্ভিসেস’ এর কর্তাব্যক্তি। কে এরা ? এদের পরিচয় তুলে ধরার অভিপ্রায় এই প্রতিবেদন।

গল্ফ ক্লাব রোডের বাসিন্দা সত্যব্রত চ্যাটাজী একদা সি পি এম কাউন্সিলরের সঙ্গে সখ্যতার সুবাদে তিনিও তাঁর স্ত্রী যুক্ত হয়ে পড়েন। এরকম অপূর্ব শ্রীমানী তিনি থাকেন উত্তরে আলমবাজার তাঁতীপারায়। তিনিও এই সংস্থার একজন পরিচালক। এই যে তিন জনের কেউ ই সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত নন। এমনকি এই সংস্থার যিনি চেয়ারম্যান তিনি একটি বাংলা সিনেমার কার্যনির্বাহী প্রযোজক ছিলেন। সেই ছবির অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও চেয়ারম্যান নিজেকে একজন সৎ ব্যক্তি বলে দাবী করেন। এযাবৎ কাল তিনি ট্রাস্টের সেক্রেটারি নিয়োগ করেন নি।
এমনকি নির্ধারিত কোষাধ্যক্ষ রাখেন নি। তিনি ও তাঁর অনুগামীদের নিয়ে এই ট্রাস্ট পরিচালিত করেন। শুধু তাই নয়, নিজের নামে এই ট্রাস্ট প্রোপার্টি mutation করে রেখেছেন। একদা এই সংস্থার যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনিও এই সংস্থার টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করেছেন। সেই মানুষটির দুর্নীতির কথা সবই জানতেন। তাঁর সাগরেদ অপূর্ব শ্রীমানী(অডিটর)। এরকম অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে ‘এমিনেন্স’ নামাঙ্কিত একটি চিট ফান্ডের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শোধ দিতে না পারলে, একজন ব্যবসাযায়ী প্রয়াত অজিত করের অনুরোধে ২০ লক্ষ টাকা (চেকে) তুলে দেন এই সংস্থাকে।
অবহেলিত ফিল্ম সার্ভিসেস! চলছে জালিয়াতি চক্র
সেই ব্যাবসায়ী কে এক ভুল চুক্তিপত্রে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষরিত করে প্রতারণা করা হয়েছে। যে কারণে, তিনি সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রমথনাথ রায়ের স্বপ্নের প্রকল্প অস্তাচলে যেতে বসেছে এই ধরনের কতিপয় মানুষদের জন্য। একমাত্র সরকার বা সরকারী কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে আসেন। তবেই একজন অকৃতদার মানুষের স্মৃতি বিজড়িত ‘ফিল্ম সার্ভিসেস’ পুনরায় গৌরবময় হয়ে উঠবে বাংলা সিনেমার গৌরব নিয়ে।



