১০০ দিন পার হয়েছে তৃতীয়বারের জন্য দেশের ক্ষমতায় এসেছে এনডিএ সরকার। মঙ্গলবারই, সরকারের ‘সেঞ্চুরি ডে’-তে ‘এক দেশ এক ভোট’ প্রক্রিয়া লাগু করার ইঙ্গিত দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর ২৪ ঘন্টা পেরতে না পেরোতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাশ হল ‘এক দেশ এক ভোট’ বিল। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ কমিটি এই বিলকে সুপারিশ করেছে। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে ‘এক দেশ এক ভোট বিল’ পাশে কেন্দ্র সরকার সক্রিয় হবে বলে সূত্রের খবর।
গত বছর ১ সেপ্টেম্বর ‘এক দেশ এক ভোট’ বিলের বাস্তবতা খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয় কেন্দ্র সরকার। চলতি বছর ১৪ মার্চে সেই কমিটি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। কমিটির সেই রিপোর্ট অবশেষে আসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। এবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘এক দেশ এক ভোট’ বিলে সিলমোহর পড়ল। উল্লেখ্য, রামনাথ কোবিন্দের কমিটি আট খন্ডে বিভক্ত ১৮ হাজার পাতার একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিল।
যদিও প্রথম থেকেই ‘এক দেশ এক ভোট’ বিলের বিরোধিতা করে আসছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএম সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। তাঁদের মতে, এই নীতি প্রয়োগ করে বিজেপি আসলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ধাঁচের ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে। বুধবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “এক দেশ এক ভোট আসলে বিজেপির আরেকটি গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ।” কংগ্রেসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সাংসদ এবং বিধায়ক নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারতবর্ষে যেটুকু বৈচিত্র অবশিষ্ট রয়েছে, তা বিজেপির এই আগ্রাসী পদক্ষেপের সামনে ভেঙে পড়বে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, লোকসভা ভোটের সঙ্গে বিধানসভা ভোট জুড়ে দিলে আঞ্চলিক দলগুলো কার্যত নিজেদের ক্ষমতা হারাবে।
আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে ‘এক দেশ এক ভোট’ এই বিলটি পাশ করাতে চাইবে এনডিএ সরকার। তবে তা একেবারেই সহজ হবে না। কারণ, লোকসভার অঙ্কটা কিছুটা বদলে গিয়েছে! এবারের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। সমস্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই নির্ভর করতে হচ্ছে শরিক দলগুলির উপরে। তাছাড়া বিরোধীরাও নিজেদের আসন সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে এই বিল পাশ করাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে কেন্দ্র সরকারকে। যদিও সরকারের দাবি, এই নিয়ম চালু হলে ভোট প্রক্রিয়ার জন্য যে বিপুল টাকা খরচ হয় তা অনেকটাই কমে যাবে।



