নবরাত্রিতে দেবী দুর্গার ৯টি রূপ ও তাদের মাহাত্ম্য জানুন

নবরাত্রিতে দুর্গার নবদুর্গা রূপের আরাধনা হয়। শৈলপুত্রী থেকে সিদ্ধিদাত্রী— প্রতিটি রূপের মাহাত্ম্য আলাদা, ভক্তদের দেয় ভিন্ন ভিন্ন ফল।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মহালয়া থেকেই বাঙালির দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হলেও নবরাত্রি চলে নয় দিন ধরে। অমাবস্যা প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত এই নয় তিথিকে বলা হয় নবরাত্রি। উত্তরপূর্ব ভারত সহ দেশের নানা প্রান্তে এই নবরাত্রিতে দেবী দুর্গাকে পুজো করা হয় ৯টি ভিন্ন ভিন্ন রূপে। এই নয় রূপকেই নবদুর্গা বলা হয়।

প্রতিটি রূপের রয়েছে নিজস্ব মাহাত্ম্য ও পূজারীতি। নবদুর্গার আরাধনা শেষে ভক্তরা উপবাস ভাঙেন। নবরাত্রির এই ৯ দিনে যে ৯টি রূপের পূজা হয় তা হল:

শৈলপুত্রী (প্রথম রূপ):
শুক্ল প্রতিপদে পূজিত হন দেবী শৈলপুত্রী। তিনি সতী, ভবানী ও পার্বতী নামেও পরিচিত। হিমালয়ের কন্যা এই রূপে ডান হাতে ত্রিশূল, বাম হাতে পদ্ম এবং মস্তকে অর্ধচন্দ্র থাকে। শক্তি ও ধৈর্যের প্রতীক এই দেবী।

ব্রহ্মচারিণী (দ্বিতীয় রূপ):
শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পূজিত হন ব্রহ্মচারিণী। সাদা বস্ত্র পরিহিতা এই দেবীর ডান হাতে জপমালা ও বাম হাতে কমণ্ডলু। তপস্যা, ত্যাগ, সংযম ও বৈরাগ্যের শক্তি বৃদ্ধি করে এই রূপের পূজা।

চন্দ্রঘণ্টা (তৃতীয় রূপ):
শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে পূজিত হন চন্দ্রঘণ্টা। তিনি রণচণ্ডী ও চন্দ্রিকা নামেও পরিচিত। এই রূপে দেবী সাধককে অদৃশ্য শক্তি প্রদান করেন। তাঁর প্রিয় ফুল পদ্ম ও রঙ লাল।

কুষ্মাণ্ডা (চতুর্থ রূপ):
শুক্লা চতুর্থীতে পূজিত হন কুষ্মাণ্ডা। সংস্কৃতে কুমড়োকে কুষ্মাণ্ড বলা হয়, আর বলিদানে কুমড়োই মায়ের প্রিয়। অষ্টভূজা ও ত্রিনয়নী এই দেবী সিংহে আরূঢ়। প্রিয় ফুল হলুদ গোলাপ।

স্কন্দমাতা (পঞ্চম রূপ):
পঞ্চমীতে পূজিত হন দেবী স্কন্দমাতা। কার্তিকের মা হিসেবে তিনি পরিচিত। ত্রিনয়নী দেবীর চার হাতে পদ্ম, এক হাতে বরাভয় মুদ্রা আর কোলে শিশু কার্তিক। মাতৃত্ব ও স্নেহের প্রতীক এই রূপ।

কাত্যায়নী (ষষ্ঠ রূপ):
ষষ্ঠীতে পূজিত হন কাত্যায়নী। ভাগবতের দশম স্কন্ধে এই ব্রতের উল্লেখ রয়েছে। এই রূপেই দেবী মহিষাসুর বধ করেন। সাহস, শক্তি ও ন্যায়ের প্রতীক এই দেবী।

কালরাত্রি (সপ্তম রূপ):
আশ্বিনের শুক্লা সপ্তমীতে পূজিত হন কালরাত্রি। কাল নাশকারী এই দেবীর গ্রহ শনিদেব। ভয়ংকর ও হিংস্র এই রূপেই দেবী শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন। অশুভ শক্তি বিনাশে এই পূজা বিশেষ ফলপ্রসূ।

মহাগৌরী (অষ্টম রূপ):
অষ্টমীতে পূজিত হন মহাগৌরী। বেগুনি রঙ ও মোগরা ফুলের পূজা তাঁর প্রিয়। অশুভ নাশ ও মানসিক পবিত্রতা বৃদ্ধির জন্য এই রূপের আরাধনা হয়।

সিদ্ধিদাত্রী (নবম রূপ):
নবমীতে পূজিত হন সিদ্ধিদাত্রী। মোক্ষদা রূপে পরিচিত এই দেবী ভক্তকে দিব্যজ্ঞান ও অনন্ত আনন্দ প্রদান করেন। জীবনের সব বাধা দূর করে আত্মিক উন্নতি সাধন করেন তিনি।

নবরাত্রিতে দুর্গার এই ৯ রূপ ভক্তদের জীবনকে শক্তি, জ্ঞান, সাহস ও পবিত্রতায় ভরিয়ে তোলে। শৈলপুত্রী থেকে সিদ্ধিদাত্রী পর্যন্ত প্রতিটি রূপের পূজা ভিন্ন ভিন্ন ফল প্রদান করে, যা জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর