প্রেমে প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ! শ্বাসরোধের পর মাথা আছড়ে খুন, আত্মহত্যা সাজাতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তরুণীর দেহ

নাগপুরে তরুণীর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর মোড়। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে শ্বাসরোধ ও মাথায় আঘাতে খুন, পরে আত্মহত্যা সাজাতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় দেহ—গ্রেফতার প্রতিবেশী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যা প্রথমে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছিল, ময়নাতদন্তে তা পরিণত হল নৃশংস খুনের ঘটনায়। নাগপুরে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে তদন্তে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে—প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রতিবেশীকেই খুন করতে হয় অভিযুক্তকে। শ্বাসরোধ, মাথায় আঘাত, তার পর আত্মহত্যার নাটক—পুরো ঘটনাই পরিকল্পিত বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

ঘটনাটি ঘটেছে **নাগপুর**ে। বুধবার বিএ পড়ুয়া ও শেয়ার ট্রেডিং প্রশিক্ষণরত তরুণী প্রাচী দেশাইকে তাঁর ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে পরিবারের ধারণা ছিল, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়—মাথায় গুরুতর আঘাতের ফলেই মৃত্যু হয়েছে তরুণীর।

Shamim Ahamed Ads

এর পরই খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা শেখর আজবরাও ধোরে (৩৮)-এর দিকে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে প্রাচীকে ভালোবাসতেন। কিন্তু প্রাচী তাঁর প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেই প্রত্যাখ্যানই ক্রমে প্রতিশোধে রূপ নেয় বলে পুলিশের ধারণা।

পুলিশ সূত্রে অভিযোগ, ঘটনার দিন প্রাচীর বাবা-মা ও ভাই বাইরে কাজে ছিলেন। সেই সুযোগেই শেখর তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়েন। বচসার এক পর্যায়ে তিনি প্রথমে তরুণীর শ্বাসরোধ করেন। তার পর দেওয়াল বা মেঝেতে মাথা আছড়ে মারেন, যাতে মৃত্যু নিশ্চিত হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে প্রাচীর নিথর দেহ একটি ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে দেন অভিযুক্ত।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত, এটি আত্মহত্যা নয়—পরিকল্পিত খুন। অভিযুক্ত শেখর আজবরাও ধোরেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ঘটনার পুনর্গঠন ও ফরেনসিক প্রমাণ খতিয়ে দেখে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত