নজরবন্দি ব্যুরোঃ সময়টা ২০২০, দেশজুড়ে চলছে করোনার প্রথম ঢেউএর তাণ্ডব। বাদ নেই বাংলাও। তারই মাঝে প্রবল ধ্বংসলীলা চালিয়ে গেল একটি ঝড়। তবে ঝড় বললে ভুল হবে, সঠিক অর্থে সুপার সাইক্লোন। নাম আমফান। এক ঝড়ের ধাক্কায় লাখো মানুষ হারালেন ঘরবাড়ি। আমফানে এ রাজ্যে মারা গেলেন ৯৮ জন। তাই রাজ্য সরকারের স্মৃতিতে আমফানের ধ্বংসলীলা আর ইয়াসের অভিজ্ঞতা দুটোই আছে।
আরও পড়ুনঃ বিদেশ যাত্রার সমস্যা মেটাতে এবার কো-উইন সার্টিফিকেটে আসছে পরিবর্তন
সার্বিকভাবে তিনটি সাইক্লোনই বঙ্গে প্রাণ নিয়েছে শতাধিক মানুষের। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বুলবুল, ২০২০ সালের মে মাসে আমফান এবং ২০২১ সালের মে মাসে যশে পশ্চিমবঙ্গে মারা গিয়েছেন মোট ১৫৩ জন। তাই এবার কোন ঝুকি নিতে চাইল না নবান্ন। গুলাব আসার আবহে বাতিল করা হল ছুটি। তবে শুধু একটি দফতরের নয়। সব দফতরের ছুটি বাতিল করা হয়েছে ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত।
আজ মুখ্যসচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী এক নির্দেশিকা জারি করে ছুটি বাতিল করেছেন সব দফতরের। গভীর নিম্নচাপ সাথে ঘূর্ণিঝড় দুটো একসাথে তাণ্ডব চালাতে চলেছে দক্ষিণ বঙ্গে। যার ফলে প্লাবিত হতে পারে বিস্তির্ণ এলাকা, ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে প্রচুর। গভীর নিম্নচাপ আগামী ১২ ঘণ্টায় পরিণত হবে ঘূর্ণিঝড়ে। যা আগামীকাল বিকেলে ওড়িশার গোপালপুর ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের মাঝে কলিঙ্গপত্তনমের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে।
স্মৃতিতে আমফানের ধ্বংসলীলা আর ইয়াসের অভিজ্ঞতা, ‘গুলাব’ আশঙ্কায় ছুটি বাতিল নবান্নের।

দুর্যোগ এখানেই শেষ হচ্ছে না। এই নিম্নচাপ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার আগেই অন্য একটি ঘুর্ণাবর্ত আছড়ে পড়বে। কারন এই ঘুর্ণিঝড় ল্যান্ডফল হওয়ার আগেই ২৭ তারিখ বঙ্গোপসাগরে আরও একটি ঘুর্ণিঝড় তৈরী হবে।যা ক্রমশ উত্তর অভিমুখে এগোতে থাকবে এবং আগামী ২৮ তারিখ সন্ধ্যেবেলায় আছড়ে পড়বে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায়। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে কমবেশি ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কোস্ট গার্ডকে। জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। যাঁরা ইতিমধ্যেই মাঝ সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী। ঘূর্ণিঝড় গুলাব ও ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলার মোকাবিলায় তৎপর হয়েছে প্রশাসন। লাগাতার মাইকে প্রচার চালানো হচ্ছে উপকূলবর্তী এলাকায়।



