নবান্ন অভিযানে আক্রান্ত পুলিশও, পার্কস্ট্রিট যেন রণক্ষেত্র!

আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার, পার্কস্ট্রিটে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হলেন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্যরা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবারের নবান্ন অভিযান ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি তপ্ত হয়ে উঠল। কলকাতার পার্কস্ট্রিটে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র বচসা ও ধস্তাধস্তির পর শুরু হয় লাঠিচার্জ। অভিযোগ, এতে একাধিক আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের দাবি, তাদের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন এই সংঘর্ষে।

সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পার্কস্ট্রিটেও পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। এখান থেকেই নবান্নের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিছু দূর যেতেই পুলিশ গার্ডরেল দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। ফলে শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতারা সেখানেই অবস্থান শুরু করেন।

শনিবার বেলা পৌনে ১২টার সময় বিধানসভা থেকে সরাসরি ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, সাংসদ অর্জুন সিং-সহ আরও নেতারা। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের কাছে পৌঁছতেই পুলিশ তাদের আটকে দেয়। দীর্ঘ বচসার পর মিছিলের রুট পরিবর্তন করে জওহরলাল নেহেরু রোড ধরে এগোনোর চেষ্টা হয়।

কলকাতা পুলিশের দাবি, নবান্ন অভিযানের জন্য কোনও রকম অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগাম নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে যদি মিছিল করা হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ নিতেই হবে। সেই মতোই পার্কস্ট্রিটে পুলিশের লাঠিচার্জে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।

পুলিশি পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অকারণে লাঠিচার্জ চালানো হয়েছে। আহত হয়েছেন নিরীহ আন্দোলনকারীরা। এরই মাঝে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি আসে, তাদেরও কয়েকজন সদস্য বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা নির্যাতিতার জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছি, কিন্তু সরকার পুলিশ দিয়ে আমাদের কণ্ঠ রোধ করতে চাইছে।” অপরদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে শহর উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।

শনিবারের এই সংঘর্ষে নবান্ন অভিযান শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, আইনশৃঙ্খলার দিক থেকেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত