নজরবন্দি ব্যুরো: কথায় আছে বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ! আর এই ১৩টি পার্বণের মধ্যে অন্যতম হল নীল পুজো বা নীল ষষ্ঠী। চৈত্র সংক্রান্তির ঠিক আগের দিন পালন করা হয় নীল ষষ্ঠী। নীল ষষ্ঠীর পরের দিন চৈত্র সংক্রান্তি অর্থাত্ চৈত্র মাসের শেষ দিন। আর তার পরের দিন পয়লা বৈশাখ, অর্থাত্ বাংলা নববর্ষের শুরু।
আরও পড়ুন: Diego Maurício: দুই প্রধানেরই হাতছাড়া আইএসএলের সোনার ছেলে, এবার কোথায় খেলবেন তিনি?

নীল ষষ্ঠী ২০২৩ দিনক্ষণ: এই বছর আগামী ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পালিত হবে নীল ষষ্ঠী। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে সেদিন ২৯ চৈত্র ১৪২৯। এই পুজোর দিন মায়েরা সারাদিন নির্জলা উপোস রেখে সন্ধের পর শিবলিঙ্গে জল ঢালে। এরপর মহাদেবের পুজো করে, প্রসাদ খেয়ে নিজেদের উপবাস ভঙ্গ করেন। তাছাড়াও এই নীল পুজোর দিন মায়েরা ব্রত পালন করে থাকে। পুরাতন কাল থেকেই সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা এই ব্রত করে আসছে। কিন্তু এই পুজোর পিছনেও রয়েছে একটি পৌরাণিক কাহিনি! আপনি কি জানেন কি সেই কাহিনী? তাহলে চলুন জেনে নিন নীল ষষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পৌরাণিক কাহিনি!

কথিত আছে, বহুকাল আগে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এক ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণী ছিলেন। মন দিয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করতেন। কিন্তু আরাধনা করলেও তাঁদের সব ছেলে-মেয়েগুলি একে একে মারা যায়। নিজেদের সন্তানদের হারিয়ে ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন ব্রাহ্মণী। এরপর ঘর বাড়ি ছেড়ে তাঁরা দু-জনে কাশীবাসী হন।
এবছর কবে নীল পুজো, জানুন নীল ষষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পৌরাণিক কাহিনি

এরপর একদিন কাশীতে গঙ্গায় স্নান সেরে মণিকর্ণিকা ঘাটে বসে ছিলেন ওই ব্রাহ্মণী। সেই সময় হঠাত্ই এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণীকে এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘কী ভাবছ মা?’ আর সেই সময় বৃদ্ধার কাছে নিজের দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। মন দিয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করার পরেও সন্তানদের অকালে হারিয়েছেন তিনি। ওই ব্রাহ্মণীর সব কথা শুনে বৃদ্ধা বলেন, “বারব্রত কখনও নিস্ফল হয় না। ঈশ্বরে বিশ্বাস রেখে ধর্মের পথে অটল থাকলে তার ফল পাবেই।” আসলে ওই বৃদ্ধা স্বয়ং মা ষষ্ঠী। তারপরেই মা ষষ্ঠী ওই ব্রাহ্মণীকে নীল ষষ্ঠীর পুজো করার কথা বলেন।
মা ষষ্ঠী বলেন, “চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন নির্জলা উপবাস রেখে মহাদেবের পুজো করতে হবে। সন্ধেবেলা শিবের আরাধনা করে ঘরে বাতি দিয়ে তবেই জল খাবে।” মা ষষ্ঠীর কথা মত ওই ব্রাহ্মণী ব্রত পালন করে। তারপর ওই ব্রাহ্মণীর কোল আলো করে আসে এক সন্তান।এরপর থেকেই বহুকাল ধরে সন্তানের মঙ্গল কামনা করে নীল ষষ্ঠী পালন করে আসছেন মায়েরা।



