Murshidabad Train Accident-এর পর দ্রুত পদক্ষেপ করল ভারতীয় রেল। শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ২.৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার সময় সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন নির্ধারিত সিগন্যাল মেনেই চলছিল। তদন্তে ইন্টারলকিং লেভেল ক্রসিং পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাফিলতির অভিযোগে সাসপেনশন
রেলের দাবি, প্রাথমিকভাবে গেটম্যান এবং সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির ইঙ্গিত মিলেছে। সেই কারণেই তাঁদের অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি বহরমপুর থানার পুলিশ গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ করে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
শুক্রবার সকালে কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, রেলগেট খোলা থাকা অবস্থায় স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া একটি পুলকার এবং এক সাইকেল আরোহী রেললাইন পার হচ্ছিলেন। সেই সময় দ্রুতগতিতে এসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধাক্কা মারে।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জেসিকা ইয়াসমিন (৯), ফারহানা সুলতানা (৬) এবং জামশেদ আলি (৬৫)। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
দুর্ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে কেবিনে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়াও কয়েকজন স্থানীয় দাবি করেছেন, ওই গেটম্যানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, তিনি অনেক সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতেন এবং গেট পরিচালনায় অবহেলা করতেন। তবে এই অভিযোগগুলির সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ হয়নি। তদন্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় রেল জানিয়েছে, তদন্তে যদি কারও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী কড়া প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।