নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার অতিমারির জন্যে এতদিন স্কুল গুলিতে পড়াশুনা সেভাবে হচ্ছে না বললেই চলে। তারই মধ্যে দিল্লির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধাঁচে পুরস্কুলের পরিকাঠামো ও পঠন-পাঠন পদ্ধতি আমূল পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু কলকাতায়। মূলত যে সমস্ত পুর স্কুল ইংলিশ মিডিয়ামে বদলে যাবে সেখানেই প্রাথমিক স্তরে নয়া কাঠামো ও রীতিনীতি চালু হবে।
নিম্নবিত্ত ও বসতির শিশুদের আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির অধীনে আনতেই রাজধানীতে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া ‘দিল্লি মডেল’ চালু করতে চাইছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। মূল টার্গেট, প্রাথমিকস্তর থেকেই শহরের গরিব ঘরের পড়ুয়াদেরও সর্বভারতীয় মানের পঠন-পাঠনের আওতায় নিয়ে আসা।

পুরসভার শিক্ষাবিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহার বক্তব্য, ‘দিল্লির সরকারি প্রাথমিক স্কুলের নয়া পঠনপাঠন পদ্ধতি ও শিক্ষণ পরিকাঠামো দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাই পুরসভার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে রাজধানীর ওই পদ্ধতি অনুসরণ করা যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীর প্রাথমিক স্কুলগুলিতে নয়া শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগে কমবয়সি পড়ুয়াদের মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশে অভাবনীয় সুফল এবং সাফল্য পেয়েছে রাজ্য সরকার।
কলকাতায় ২৪১টি পুরস্কুলের মধ্যে বর্তমানে ৭১টিতে ইংলিশ মিডিয়ামে পঠনপাঠন চলছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও ৮০টি স্কুলকেও ইংরেজি মাধ্যমের অধীনে নিয়ে আসতে চান মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। কিন্তু শুধু নামে বা ভাষায় ইংরেজিতে পড়াশোনা নয়, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির দ্রুত প্রয়োগও চান মেয়র। বস্তুত এই কারণে এবার শহরে বদলে যাওয়া পুরসভার স্কুলে ইংলিশ মিডিয়াম চালুর সঙ্গেও ডিজিটাল ল্যাব, স্মার্ট ক্লাসরুম, প্লে-জোন থেকে শুরু করে ‘ইংলিশ কমিউনিকেশন স্কিল’ চালু করার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন মেয়র পারিষদ শিক্ষা।
কিন্তু সেক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ও বসতিবাসী কমবয়সিদের জন্য ইতিমধ্যে দেশের অন্যতম সেরা পঠন-পাঠন পদ্ধতি হিসাবে চিহ্নিত দিল্লির সরকারের প্রাথমিক স্কুলগুলি সরেজমিনে পরিদর্শনে যাচ্ছেন তিনি। পুরসভার শিক্ষা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে আগামী ১৮ এপ্রিল রাজধানী পৌঁছবেন সন্দীপন। পরিদর্শনের পাশাপাশি বৈঠক করবেন ওই রাজ্যের শিক্ষাকর্তা এবং প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গেও।
খোলচাল পালটে যাচ্ছে পুরসভার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলির, আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

তবে আগামী পাঁচ বছরে কোন ৮০টি স্কুল ইংলিশ মিডিয়ামে বদলে যাবে তা নিয়ে শহর জুড়ে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। কারণ, কোন জোনের বাসিন্দারা আদৌ পুরসভার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়তে রাজি হবেন তা জেনেই তবেই পরিবর্তন করা হবে। শিক্ষার মেয়র পারিষদের বক্তব্য, ‘ইংলিশ মিডিয়াম পুরস্কুলে পড়াতে পারবেন এমন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রস্তুত করে তবে তো বিদ্যালয়ের মাধ্যম পরিবর্তন হবে।’



