নজরবন্দি, মালদা: ঝাড়খণ্ডের ত্রিকুট পাহাড়ের রোপওয়ে দুর্ঘটনা, প্রাণে বাঁচলেন মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ৮ জন পর্যটকরা, ২৪ ঘন্টা জল না মেলায় তৃষ্ণা নিবারণের জন্য মূত্র সংরক্ষণ করেছিলেন বোতলে, শুনুন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা। ফিরে আসলেও তারা শারীরিক ভাবে তেমন অসুস্থ না হলে মানসিক ভাবে আতঙ্কিত।
আরও পড়ুনঃ নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে অভিনব উদ্যোগ শিলিগুড়িতে, জানালেন মেয়র গৌতম দেব
কারণ খাবার এবং জল ছাড়া প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছিল রোপওয়েতে। পানীয় জল না মেলায় তৃষ্ণা নিবারণের জন্য নিজেদের প্রস্রাব সংরক্ষণ করে রেখেছিল বোতলে। যে ঘটনা শুনলে রীতিমতো গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে। ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের কাছে বাবা বৈদ্যনাথ ধাম থেকে মাত্র কুড়ি কিলোমিটার দূরে ত্রিকুট পাহাড়ে ভারতের উচ্চতম ভার্টিক্যাল রোপওয়ে তে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে বেচে ফেরা পরিবারের লোকজনদের।

তাদের কথায় গত রবিবার বিকেল চারটের সময়এই দুর্ঘটনা ঘটে। শূন্যের ঝুলন্ত অবস্থায় মুখোমুখি দুটি রোপওয়ে কেবিনের ধাক্কা লাগাতেই দুর্ঘটনার ঘটে বলে জানান তারা। এই ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই দুর্ঘটনার জেরে বারোটি রোপ ওয়ে উপরে আটকে যায়। প্রায় ৩০ জনেরও বেশি রোপওয়ে ভ্রমনার্থী ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ওই রোপওয়ে গুলির মধ্যে আটকে ছিল। দুর্ঘটনার কাজে উদ্ধারের জন্য সোমবার দিন সকাল থেকে নামানো হয় ইন্ডিয়ান আর্মি, আইটিবিপি, ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স এর জাওয়ানদের।

এদিকে এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের আট বাসিন্দা। এদের বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বাজার পাড়াতে। তাদের নাম দেবানজয় পাল, ঝুমা পাল, বিনয় দাস,নমিতা দাস,সুধীর কুমার দত্ত, সাহেব দাস,পুতুল শর্মা,আরো এক জন ভালুকা বাজারের বাসিন্দা বলে জানা যায়। গত শনিবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুরের ভালুকা বাজার থেকে একটি বাস দেওঘর এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এই বাসে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এমনকি মালাহার, সামসি, রতুয়া বাহারাল, মানিকচক, কালিয়াচকের বাসিন্দারাও ছিল বলে জানা গেছে।
ওই বাসে থাকা এক যাত্রী জানান আমরা গত শনিবার জেলার প্রায় ৫০ জন পুণ্যার্থী কে নিয়ে দেওঘর এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। ইচ্ছে ছিল দেওঘর বাবা বৈদ্যনাথ ধাম এ পুজো দিয়ে ত্রিকুট পাহাড় বেড়িয়ে আসার। সেই পরিকল্পনা করে আমরা গত রবিবার দুপুরে ত্রিকুট পাহাড় এসেছিলাম। সেখানে পাহাড়ে ওঠার জন্য ক্যাবলকারে চড়ার জন্য টিকিট কেটেছিলেন আমাদেরই কয়েকজন বাসের সহযাত্রীরা। তাদের মধ্যে চারজন ওই ক্যাবলকারে জায়গা পেয়ে যান।
ঝাড়খণ্ডের রোপওয়ে দুর্ঘটনা, ২৪ ঘন্টা নির্জলা থেকে বেঁচে ফিরলেন ৮ পর্যটক, পড়ুন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয় কেবিল কার গুলো। আমাদের আট জন দীর্ঘক্ষণ ওই ক্যাবলকারে আটকে থাকেন উপরে। প্রায় ২৪ ঘন্টা উপরে থাকার পর সেনা বাহিনীর প্রচেষ্টায় উদ্ধার করে ওদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওদের আঘাত গুরুতর না হল মানসিকভাবে ভীষণ আতঙ্কিত। উদ্ধারকাজে সেনা-বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার নামানো হয়েছে। এমনকি ঝাড়খন্ড প্রশাসন ড্রোনের মাধ্যমে উপরে আটকে থাকা কেবল করের মধ্যে যাত্রীদের খাবার সরবরাহ করেছেন লাগাতার ২৪ ঘন্টা ধরে।



