শেষ মুহুর্তে শুভ্রাংশু কে টিপস মুকুলের, জিতলে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী……!

শেষ মুহুর্তে শুভ্রাংশু কে টিপস মুকুলের, জিতলে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী......!
শেষ মুহুর্তে শুভ্রাংশু কে টিপস মুকুলের, জিতলে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী......!

অর্ক সানাঃ শেষ মুহুর্তে শুভ্রাংশু কে টিপস দিলেন পিতা মুকুল রায়। একই দিনে দুজন লড়ছেন আলাদা কেন্দ্র থেকে। ২০১৭ সালে বিজেপি যোগদানের পর গেরুয়া পালে হাওয়া লেগেছিল, বহু মানুষ মুকুল রায়ের আবহে বিজেপি-তে যোগদান করেছেন। দলীয় আদর্শের থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক উর্দ্ধে স্থান পায় ক্ষমতার স্বাদ। আর সেই লালসার অস্ত্রেই মুকুল রায় জখম করছেন তাঁর প্রাক্তন দলকে। তবে ব্যাপারটা কি খুব সহজ ছিল? সহজ উত্তর ‘না’। কারন মুকুল রায় জখন তৃণমূলের হয়ে অন্য দলের ঘর ভাঙাতেন তখন তাঁর হাতে শাসকের ক্ষমতা ছিল, যার ফলে আদর্শচ্যুত ক্ষমতালোভিদের ক্রিড়নক করে শাসক দলে নিয়ে আসার কাজটা ছিল অনেক সহজ।

আরও পড়ুনঃ ষষ্ঠ দফায় ৪৩ আসনে নির্বাচন, লোকসভার ভিত্তিতে কোন দল, কত ভোটে এগিয়ে?

কিন্তু শাসক দল থেকে বিরোধীদলে যোগদান করানোর জন্যে যথেষ্ট রাজনৈতিক পরিপক্কতা দরকার হয়। মনে রাখতে হবে কোন দলের হাতে ক্ষমতা আসতে গেলে লাগে জন সমর্থন, পশ্চিমবঙ্গে সরপঞ্জ না থাকলেও এলাকার দাদা বাম-তৃনমূল সব আমলেই দেখা যায়। দাদারা জামা বদলে ফেললেই ক্ষমতার হস্তান্তর। নতুন ভোটার গজিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে হারানো যায়না, বরং পুরোনো ভোটাররা মন পরিবর্তন করলেই ক্ষমতার পরিবর্তন হয়।

লোকসভা নির্বাচন ২০১৯, বিজেপি-র হয়ে নিজে ভোটে না দাঁড়িয়ে কিং মেকারের কাজ করলেন মুকুল রায়। বোঝালেন তিনি কেন বঙ্গ রাজনীতির চানক্য! অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ ভোটে লড়লেন, জিতলেন! অর্থাৎ সাংসদ হলেন! ব্যাপারটা কি খুব সহজ সরল? মোটেই না। দিলীপ সাংসদ হওয়া মানে, রাজ্যের মুখ হওয়ার লড়াই থেকে সামান্য হলেও সরে যাওয়া! বলা ভাল মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকেও। কাজেই মুকুল রায়ের সামনে ফাঁকা মাঠ, গোল দেওয়ার সূবর্ণ সুযোগ। কিন্তু তখনই সামান্য ভুলে ঘটল মনিরুল কাণ্ড। আরএসএসের চোখে কিছুটা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ল মুকুল রায়ের সিদ্ধান্ত!

তারপর থেকেই বঙ্গ বিজেপির মুখ হয়ে উঠতে থাকা মুকুল রায় কিছুটা থমকে গেছেন। এদিকে দিলীপ ঘোষ ছিলেন লোকসভা ভোটে বঙ্গ বিজেপির ক্যাপ্টেন তাই যিনিই খেলুন ট্রফি উঠেছে তাঁর হাতেই! বঙ্গ বিজেপির কাণ্ডারি এখনও তিনি! দিলীপের প্লাস পয়েন্ট তাঁর আরএসএস ব্যাকগ্রাউণ্ড। তা স্বত্বেও মুকুল রায়ের মত যোগ্য রাজনীতিক কে সরাসরি সাইডলাইন করে মুখ্যমন্ত্রীত্বের দৌড়ে দিলীপের এগোনো কঠিন, যদিও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর এমন কথা অন্দরে বা বাইরে কখনও বলেননি মুকুল রায়। তবুও তিনি মুকুল রায়! অমিত শাহর নির্দেশে ভোটে লড়তে রাজি হয়েছেন। দিলীপ কিন্তু লড়েননি!

২০ বছর আগে ২০০১ সালে জগদ্দল বিধানসভায় ভোটে লড়াই করে ফরওয়ার্ড ব্লকের হরিপদ বিশ্বাসের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মুকুল। কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে একদিকে যখন পিতা লড়ছেন অন্য দিকে বীজপুরে তখন পুত্র শুভ্রাংশু! শেষ মুহুর্তে শুভ্রাংশু কে টিপস দিয়ে গেছেন মুকুল। এক নজরে দেখে নিন এই দুই আসনে লোকসভা ২০১৯ এর ফলের ভিত্তিতে কোন দল কোথায় দাঁড়িয়ে। কৃষ্ণনগর উত্তর অর্থাৎ নুকুল রায় যে আসনে লড়ছেন সেখানে ১,১৫,৮৭৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পায় ৬২,৩২৪ ভোট। সিপিএম ১০,৫০৬ ও কংগ্রেস ২,৪০৯ ভোট পেয়েছিল। অন্যদিকে বীজপুর, শুভ্রাংশুর কেন্দ্রে ৫৮,৯১২ ভোট পেয়ে এগিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূল পায় ৫১,০১৬ ভোট। সিপিএম পায় ১৪,৩৮৫ ভোট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here