নজরবন্দি ব্যুরো: গতকাল ছিল বাংলা নির্বাচনের প্রথম দফা। এখনো বাকি ৭ দফা। তবে গতকাল দিনভর থেকে আজ পর্যন্ত ভোট, এবং ভোটের হার নিয়ে যে পরিমাণ জল্পনা এবং জলঘোলা হয়েছে, তার থেকে বেশি জল্পনা হচ্ছে দুটি অডিও ক্লিপ নিয়ে। প্রথমটি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সাংগঠনিক সাহায্য চেয়ে তিনি ফোন করেছিলেন নন্দীগ্রামের প্রলয় পাল কে।চেয়েছিলেন নির্বাচনে সাহায্য। সেই অডিও ক্লিপ ভোট আবহে ফাঁস করে বিজেপি। চলে তরজা, পক্ষ বিপক্ষের যুক্তি তক্ক। সেই ঘটনার বেলা ঘুরতেই প্রকাশ পায় আর একটি অডিও ক্লিপ। মুকুল রায়ের অডিও ক্লিপ! নিজেই ফাঁস করেছেন গোপন ‘অডিও’?
কুণাল ঘোষ প্রকাশ করেন সেই অডিও টেপ, সেখানে শোনা যায় মুকুল রায় এবং শিশির বাজোরিয়ার একটি কথোপকথন। যেখানে মুকুল রায় বাজোরিয়াকে বলছেন, বুথে এজেন্ট বসানো নিয়ে নিয়ম বদলাতে হবে, নইলে একাধিক বুথে ঢুকতে পারবে না বিজেপি। নিয়ম করতে হবে রাজ্যের বাসিন্দা হলেই হবে। এবং ঘটনা চক্রে ঘটেছেও তাই, নির্বাচন কমিশন কোনো আলোচনা না করেই বুথে এজেন্ট বসানোর নিয়মে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন নিজেদের মতো করে। গতকাল সংবাদ মাধ্যমের হাতে কুণাল তুলে দেন সেই অডিও। যাতে মুকুল রায় এবং শিশির বাজোরিয়ার কথোপকথন শোনা গিয়েছিল। তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা দাবী করেছিলেন বিজেপির কথা মেনেই কমিশন পরিবর্তন করছে নিয়মের।
অর্থাৎ পর্দার আড়ালে মিলে আছে দুজনেই। যদিও এই অডিও ক্লিপের গলা নিয়ে অস্বীকার করেছিলেন মুকুল রায়। তিনি জানিয়েছিলেন একশো শতাংশ মিথ্যে এই ঘটনা। কিন্তু, আজকে সেই ঘটনার নতুন মোড় নিয়েছে। অসমর্থিত সূত্রের খবর, কলকাতার এক প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমের কর্তা মিঃ কে. রায় কে এই অডিও ক্লিপ নিজেই দিয়েছেন মুকুল রায়! বাংলার রাজনীতির চানক্য বলা হয় তাঁকে। তৃণমুল থেকে বিজেপির আজকের এই দলত্যাগ, তার একেবারে শুরুর শুরু ছিলেন তিনিই। দীর্ঘ কাল পিছনে থেকে সংগঠন সামলে ২০ বছর পরে বিজেপির হয়ে নির্বাচন লড়তে যাচ্ছেন তিনি কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে। তার আগেই কালকের তাঁর অডিও ক্লিপ নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।
নির্বাচনের প্রথম দিনেই এহেন বক্তব্য সামনে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তোলপাড় ফেলেছে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমেও। সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ খোদ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মুকুল রায়কে। তবে সেসবের মধ্যেই গল্পে এসেছে নতুন মোড়, সূত্রের খবর, কালকের এই অডিও ক্লিপ সংবাদ মাধ্যমকে দিয়েছেন খোদ মুকুল রায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এই ঘটনা তুমুল বদলে দিতে পারে বাংলার রাজনীতিকে। যদিও এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি।



