নজরবন্দি ব্যুরোঃ সকাল ৭ টা নাগাত রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর একটি দল এসেছিল। মন্ত্রীর খোঁজে তারা বাড়ির ভিতরে ঢোকে। সারা দিন কেটে যাওয়ার পর এখন রাত সাড়ে ১১টা পেরোলেও ইডির ওই দলটি পার্থর বাড়ি থেকে বেরোয়নি। প্রায় সাড়ে ১৫ ঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছে এখনও জেরা চলছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ীতে পৌঁছল আরো কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ইডি আধিকারিকরা।
আরও পড়ুনঃ ‘দল এর দায়িত্ব নেবে না’, SSC নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে নেই তৃণমূল!


পার্থ বাবুর বাড়িতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানিয়েছেন, ‘‘সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ কলিং বেল বাজে। বেল শুনে ঘরের দরজা খুলেছিলেন পার্থবাবুর নিরাপত্তারক্ষী। তিনি দরজা খুলতেই দেখেন বাইরে আট জন দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেই ব্যাক্তিরা জানান, তাঁরা ইডির লোক। এর পর তাঁদের এক জন ওই হোমগার্ডকে বলেন, ‘সরুন, ভিতরে যেতে দিন।’ এই বলেই ভিতরে ঢুকে আসেন ইডির লোকেরা।’’

সেই যে তাঁরা বাড়িতে ঢুকেছেন তাঁরা এখনও বেরোননি। মন্ত্রীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পার্থ। পরে ভবানীপুুর থানার পুলিশের সঙ্গে এসএসকেএম-এর তিন জন চিকিৎসক এসেছিলেন তাঁর বাড়িতে। এক জন অর্থোপেডিক, এক জন মেডিসিন আর এক জন কার্ডিয়োর চিকিৎসক। পরে বিকেল ৪টে নাগাদ মন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান চিকিৎসকেরা।



এদিকে পার্থর জেরা যখন চলছে তখন একই সময়ে তাঁর জামাই কৃষ্ণচন্দ্র অধিকারীর বাড়িতেও পৌঁছেছিলেন তদন্তকারীরা। প্রায় ১১ ঘন্টা পর পার্থবাবুর জামাইয়ের বাড়ি থেকে গাদা গাদা কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। জামাই জানিয়েছেন, ইডি অফিসাররা এসেছিলেন। তাঁরা আমাকে কিচ্ছু বলেননি। তবে কাগজপত্র যা পেলেন, সব নিয়ে গেলেন। ওনারা হাতের কাছে যা পেয়েছেন, সব নিয়ে গিয়েছেন।”
রাতেই গ্রেফতার? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ীতে পৌঁছল আরো কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ইডি আধিকারিকরা

অন্যদিকে আজ কিছুক্ষন আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে নগদ ২০ কোটি টাকা এবং ২০ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে ইডি। ঘিরে ফেলা হয়েছে অর্পিতার বাসস্থান। ইডি সূত্রে দাবি, টালিগঞ্জের ডায়মন্ড সিটি সাউথের আবাসনে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ২০ কোটি নগদ টাকা। অর্পিতার বাড়িতে তিনটি নোট গোনার মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের ডেকে ওই মেশিন ব্যবহার করে উদ্ধার হওয়া টাকা গোনা হয়েছে!








