নজরবন্দি ব্যুরো: প্রত্যাশা ছিলই। বহিষ্কারের পর সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন মহুয়া মৈত্র। আর হলও তাই। সোমবার শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলেন তিনি। মূলত, সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মহুয়া প্রাথমিকভাবে মামলাটি দায়ের করেছেন। এই মামলার শুনানির সম্ভাবনাও শীঘ্রই। তাহলে মহুয়া (Mohua Moitra) কি নিজের হারানো সাংসদ পদ ফিরে পেতে চলেছেন?
আরও পড়ুন: Jammu and Kashmir-কে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে, ৩৭০ ধারা বিলোপ বৈধ, জানাল Supreme Court
জানা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টে মোট ১৫ পাতার অভিযোগ দায়ের করেছেন মহুয়া। সেখানে মূলত এথিক্স কমিটির এত্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর মতে, এথিক্স কমিটি কোনোভাবেই একজন সাংসদকে বহিষ্কারের সুপারিশ করতে পারে না। আর করলেও একটা তদন্তাধীন বিষয়কে কীভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করতে পারে?

দ্বিতীয়ত, তিনি আবারও দাবি করলেন নিজের লগ-ইন, পাসওয়ার্ড কাউকে দেওয়া যাবে না তা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই। আর দিলেও তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র তাঁর প্রশ্ন টাইপ করে দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, মহুয়ার অভিযোগ, তাঁকে ‘টার্গেট’ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বহিষ্কার করেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন, মহুয়ার ভবিষ্যত কী হবে? নতুন কোনদিকে মোড় নেবে বহিষ্কার কাণ্ড?

এর আগে মহুয়ার ভবিষ্যত কী হতে পারে তা অনেকটাই খোলসা করেছেন লোকসভার প্রাক্তন সচিব পিডিটি আচারি। তিনি জানিয়েছিলেন, তৃণমূল সাংসদের সামনে অনেকগুলো রাস্তাই খোলা থাকছে। এক, তিনি এথিক্স কমিটির তদন্তের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। প্রাথমিক রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রিভিলেজ কমিটির দ্বারস্থ হতে পারেন মহুয়া। দুই, সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার রাস্তা তো আছেই। কিন্তু আরেকটা প্রশ্ন আসছে মহুয়া কি আবারও লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন?
বহিষ্কারের পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মহুয়া, ফিরে পাবেন হারানো সাংসদ পদ?
ভারতীয় সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদ পদ খারিজ হওয়া মানেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার হারানো নয়। একমাত্র ফৌজদারি মামলায় কোনও ব্যক্তি দোষী হলে এবং তাঁর ২ বছরের জন্য কারাবাসের শাস্তি ধার্য হলেই সেই ব্যক্তি ভোটে লড়তে পারেন না। মহুয়ার ক্ষেত্রে তা হয়নি। তাই তিনি আগামী লোকসভায় প্রার্থী হতেই পারবেন। সেক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই।



