ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) সভাপতি পদে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রজার বিনির পর এবার মিঠুন মনহাস BCCI সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো— জাতীয় দলে কখনও সুযোগ না পাওয়া এই দিল্লির ঘরোয়া ক্রিকেটার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বোর্ডের সর্বোচ্চ আসনে বসছেন।
বছরের পর বছর ধরে ক্রিকেট মাঠে ও প্রশাসনিক দপ্তরে সক্রিয় ছিলেন মনহাস। বর্তমানে তিনি জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (JKCA) প্রশাসক। পাশাপাশি, তিনি নর্থ জোনের দলীপ ট্রফির কনভেনার হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। এমনকি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি গুজরাট টাইটান্সের সাপোর্ট স্টাফ হিসেবেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাননি, তবুও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ছিলেন এক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। ১৫৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে প্রায় ১০ হাজার রান তাঁর ঝুলিতে। ২০০৭-০৮ সালের রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লিকে চ্যাম্পিয়ন করার নেপথ্যে অধিনায়ক মনহাসের নেতৃত্ব ছিল অবিস্মরণীয়।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় BCCI সভাপতি নির্বাচিত হলেন মিঠুন মনহাস, কে ইনি? চিনে নিন

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর BCCI-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি ঘোষণা করা হবে। সংবিধান সংশোধনের পর থেকে এই নির্বাচন প্রায় আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সভাপতি নির্বাচিত হওয়াটাই এখন রীতি হয়ে উঠেছে।
এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। একাধিক নাম ভেসে উঠলেও, শেষ পর্যন্ত মিঠুন মনহাসকেই বোর্ড সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হচ্ছে। ফলে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি হতে চলেছেন প্রথম আনক্যাপড ক্রিকেটার, যিনি এই সম্মানজনক পদে বসবেন।
মাঠ থেকে প্রশাসনিক নেতৃত্বে
মাঠের ভেতরে যেমন তিনি ছিলেন এক লড়াকু ব্যাটার, মাঠের বাইরে তেমনি দেখিয়েছেন নেতৃত্বের দক্ষতা। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকা বহুবার প্রশংসিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগছে জাতীয় পর্যায়ে।
BCCI-র বিভিন্ন মিটিংয়ে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার সময়েই তাঁর সংগঠকসুলভ দক্ষতা নজরে আসে বোর্ডের শীর্ষ মহলের। ক্রিকেটার হিসেবে পাওয়া সেই অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক ভূমিকার সমন্বয় তাঁকে সভাপতি পদে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী করে তুলেছে।
ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান
প্রথম শ্রেণির অভিষেক: ১৯৯৭-৯৮ মরশুমে
মোট প্রথম শ্রেণির ম্যাচ: ১৫৭
মোট রান: ৯,৭১৪
শতরান: ২৭, অর্ধশতরান: ৪৯
গড়: ৪৫.৮২
সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের মরশুম: ২০০৭-০৮ (৯২১ রান, গড় ৫৭.৫৬)
আইপিএল অভিজ্ঞতা: দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, পুনে ওয়ারিয়র্স, চেন্নাই সুপার কিংস
বোর্ডে অন্য পদগুলির সম্ভাবনা
শুধু সভাপতি নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে চলেছে। রঘুরাম ভাট সম্ভবত বোর্ডের নতুন কোষাধ্যক্ষ হবেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগের মতোই বহাল থাকছেন রাজীব শুক্লা। যুগ্ম সচিব পদে আলোচনায় আছেন প্রভতেজ ভাটিয়া। আইপিএলের প্রধান হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেতে পারেন অরুণ ধুমাল। আর প্রাক্তন ক্রিকেটার কিরণ মোরেরও বোর্ডে প্রবেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে সূত্রের খবর।
ভারতীয় ক্রিকেটে তারকাদের শীর্ষ পদে দেখা নতুন কিছু নয়। তবে, একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার BCCI সভাপতি পদে বসছেন— এটি নিঃসন্দেহে ইতিহাস গড়ার ঘটনা। এটি বোঝাচ্ছে যে এখন আর শুধু তারকাখ্যাতি নয়, বরং অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাও বড় হয়ে উঠছে।
মিঠুন মনহাসের নির্বাচিত হওয়া ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা আগামী দিনে বোর্ডের নীতিনির্ধারণে নতুন দিক দেখাবে।



