নজরবন্দি ব্যুরো: ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা হবে’, মাইকেল মধুসূদন দত্তর লেখা কবিতার এই পংক্তিটি আমরা প্রায় প্রত্যেকেই কখনও না কখনও ব্যবহার করেছি। কেউ কেউ বলেন মৃত্যুর ওপারেও জীবন আছে। কিন্তু মৃত্যুর পর তো কিছু জানা যায় না। তাই সেই জীবন আমাদের কাছে অজানাই রয়ে গিয়েছে। অনেকে আবার বিশ্বাস করেন, আমাদের কাছের মানুষের মৃত্যু হলে আমরা তাঁদের দেখতে না পেলেও তাঁরা সর্বদা আমাদের দেখেন এবং রক্ষা করেন।
আরও পড়ুন: ইতিহাসের পাতায় গুরুত্বপূর্ণ ১৫ ডিসেম্বর, আজকের দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী কী?


এসব কতটা সত্য তা এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা যায়নি। কিন্তু বিজ্ঞানের বাইরে গিয়ে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায় যেগুলি অবিশ্বাস্য মনে হলেও আদতে সত্য ঘটনা। এমনই একটি ঘটনা (Miracle Happened in newyork) আপনাদের সামনে তুলে ধরব আজ।

লরেন ক্যানাডে নামের এক মহিলা দাবি করেছেন, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু ২৪ মিনিট পরই তিনি চোখ খুলে তাকান। তাঁর দেহে পুনরায় প্রাণের সঞ্চার হয়। তাঁর কথা শুনে চমকে ওঠেন চিকিৎসকেরা। মেডিক্যাল সায়েন্সে এমন ঘটনা আগে শোনেননি অনেকেই। নিউইয়র্কের এক বিখ্যাত সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন লরেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এও কি সম্ভব? মানবদেহের মৃত্যু হলে আবার জীবিত হয়ে ফিরে আসা সম্ভব?



লরেন ক্যানাডে তাঁর সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বাড়িতে থাকতেই তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তাঁর স্বামী দ্রুত হাসপাতালে ফোন করলে চিকিৎসকেরা ছুটে আসেন। অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। ২ দিন কোমায় ছিলেন তিনি। কোনও চিকিৎসাই কাজে আসছিল না। অবশেষে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরই ঘটে যায় এক আশ্চর্য। মৃত্যুর ২৪ মিনিট পরই চোখ খোলেন তিনি। বুঝতে পারেন হাসপাতালে রয়েছেন। এই দৃশ্য দেখে চিকিৎসকদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। এদিকে পরিবারের সদস্যদের কান্নার আওয়াজ কানে ভেসে আসছিল লরেনের। দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরু করা হয়।
মৃত্যুর ২৪ মিনিট পর চোখ খুললেন মৃতা! পুনরায় প্রাণ ফিরল দেহে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে আশ্চর্য

লরেন জানান,‘আমি আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলাম, কিন্তু ডাক্তাররা অবাক হয়ে দেখেন যে এমআরআইতে মস্তিষ্কের কোনও ক্ষতি দেখা যায়নি।’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মৃত্যুর পর তাঁর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? প্রশ্নটি শুনতে হাস্যকর মনে হলেও এর উত্তর দিয়েছেন লরেন। তাঁর কথায়, “এটা অদ্ভুত, কিন্তু একেবারে সত্যি। আমি আর মৃত্যুকে ভয় পাই না। যখন আমার শরীরে প্রাণ ছিল না, তখন আমার মনে আছে আমি ভীষণ শান্তি অনুভব করছিলাম।’







