নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী কোনও বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের ন্যূনতম বয়স হতে হয় ১৮ বছর। কিন্তু কিছু কিছু ব্যক্তিগত আইন যেমন মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী বিবাহযোগ্যতার ক্ষেত্রে ১৮ বছরের কোনও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। এই মর্মে শীর্ষ আদালতের কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছিল জাতীয় মহিলা কমিশন ।
আরও পড়ুনঃ প্রায় ৬ বছর পর টেট পরীক্ষার্থীদের জন্য রইল স্পেশ্যাল ট্রেন, দেখে নিন সময়সূচি

সেই আবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবার কেন্দ্রকে নোটিস দিল দেশের শীর্ষ আদালত। জাতীয় মহিলা কমিশনের তরফ থেকে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি পিএস নরসিহং-এর বেঞ্চে আপিল করেছেন সিনিয়র অ্য়াডভোকেট গীতা লুথরা, আইনজীবী শিবানী সুথরা লোহিয়া ও আইনজীবী অস্মিতা নারুলা। আবেদনকারীদের বক্তব্য হল, ১৫ বছর বয়স হলেই কোনও মুসলিম মেয়ে তাঁর পছন্দের সঙ্গীকে বিয়ে করতে পারে।

সেক্ষেত্রে বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইনের সঙ্গে হিন্দু, মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের যে সব বিবাহ আইন রয়েছে সেখানে ফারাক হয়ে যাচ্ছে। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সব মেয়েদেরই বিয়ের ন্যুনতম বয়স ১৮ বছর থেকে বাড়িয়ে ২১ বছর করেছে। ঐ আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছে, সে হয়তো জৈবিক ভাবে প্রজনন করতে সক্ষম। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট মেয়েটি মানসিক ভাবে যথেষ্ট পরিপক্ব এবং বিয়ে করার জন্য শারীরিক ভাবে প্রস্তুত।
এই রকম অপরিণত বয়সের মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। তার পর বিয়ের পর স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা শারীরিক বা মানসিক ভাবে অত্যাচারিত হলে বৈধতার যুক্তি দেওয়া হয়। এই আবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ কেন্দ্রকে নোটিস পাঠিয়েছে।
সব ধর্মের বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের ন্যূনতম বয়স হোক ১৮, শীর্ষ আদালতে আবেদন জাতীয় মহিলা কমিশনের

এই বিষয়ে কেন্দ্রের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বাল্য বিবাহ নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ২১ বছরের নীচে কোনও ব্যক্তি ও ১৮ বছরের নীচে কোনও কিশোরীর বিবাহ শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।



