শিশুসন্তান কোলে দেবীর রূপে পরিযায়ী মা। আত্মনির্ভর দেশের নির্মম চিত্র বড়িশার মন্ডপে।

শিশুসন্তান কোলে দেবীর রূপে পরিযায়ী মা। আত্মনির্ভর দেশের নির্মম চিত্র বড়িশার মন্ডপে।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিশুসন্তান কোলে দেবীর রূপে পরিযায়ী মা। আত্মনির্ভর দেশের জলছবি বড়িশায়। এরা গরীব শ্রমিক, সঠিক অর্থে মানুষ হিসেবে ধরা হয়না এদের; তবে ভোটার হিসেবে একটা সুখ্যাতি রয়েছে। বছর বছর এই মেহনতি মানুষ গুলো নিয়ম করে ভোট দেন আর কায়িক পরিশ্রম করেন। দেশের কি হল না হল সেটা নিয়ে যেমন এঁদের মাথা ব্যাথা নেই তেমনই এরা কে মরল বা কে বাঁচল তা নিয়ে সরকারেরও মাথা ব্যাথা নেই। থাকবেই বা কেন? ব্যাটারা গরীব কিনা!

আরও পড়ুনঃ সব আদিবাসী পুরোহিতকে ভাতা, দ্বিতীয় দফায় পুরোহিতদের নির্ভুল তালিকা চাইল নবান্ন।

লকডাউন ঘোষণা হল, দেশের প্রধানমন্ত্রী করজোড়ে অনুরোধ করলেন যে যেখানে আছেন এই কদিন সেখানেই থাকুন; কিন্তু থাকবে তো বোঝা গেল, তা সেটা কোথায়? খাবে টা কি? উত্তর নেই! আসলে উত্তর দেওয়ার দরকারও নেই, এরা গরীব কিনা! এরা মানুষ নয়, শুধুই ভোটার। মালগাড়ির ধাক্কায় যেদিন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল ১৫ জন শ্রমিকের দেহ, সেইদিনই জানা গেল নানান দেশ থেকে বিমানে করে ফিরিয়ে আনা হবে ভারতীয় নাগরিকদের! এরা সম্মানীয় নাগরিক আর ওরা পরিযায়ী শ্রমিক তফাৎ তো আছেই!

তাই ৬৪ টি প্লেন আর ৩ টি জাহাজের ব্যাবস্থা। গরীব মরেছে তাতে কি আসে যায়, নাগরিক বাঁচলেই হল। তবুও শ্রমিক হেঁটেছে, মাইলের পর মাইল! সন্তান কোলে নিয়ে তপ্ত পিচগলা রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত অবসন্ন শরীরেও শেষ পর্যন্ত হারেন নি অনেক মা। পিঠে বোঝা, পেটে খিদে সাথে সন্তান… এদেশের দুর্গা। আর এবার সেই দুর্গা মাকে সম্মান জানাল বেহালার বড়িশা ক্লাব পুজো কমিটি। তাঁদের পুজো মন্ডপের প্রতিমা এবার এসেছেন পরিযায়ী মায়ের রূপে।

শিশুসন্তান কোলে দেবীর রূপে পরিযায়ী মা। আত্মনির্ভর দেশের জলছবি বড়িশায়। পরিযায়ী শ্রমিক সন্তানদের প্রতিচ্ছবি মিলছে প্যাঁচা কোলে লক্ষ্মী এবং হাঁস কোলে সরস্বতীর রূপে। শিশুসন্তান কোলে এক পরিযায়ী মা–কে শিশু কার্তিক কোলে দেবী দুর্গার রূপ দিয়েছেন সরকারি আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্‌ট কলেজের স্নাতক রিন্টু দাস। থাকছে গণেশের মূর্তিও। করোনা আবহ না থাকলে হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করতেন মন্ডপে। অনেকে হা হুতাশ করতেন, দুঃখ পেতেন। শুধু শ্রমিক আর নাগরিকের তফাৎ টা মিটত না স্বাধীনতার এত বছর পরেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x