নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ফের শোরগোল উঠল রাজ্যে। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ব্লকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ জানায়, পাশ করা সমস্ত পরীক্ষার্থীর খাতা, মার্কশিট ও রেজাল্টের কপি হলফনামা সহ জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে মামলাটি সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে মেখলিগঞ্জে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগে EWS (আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি)-এর সংরক্ষিত আসন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে EWS কোটা না থাকলেও ১৫ জনকে ওই শ্রেণি থেকে চাকরি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দুর্গাপুজোর আগে রাতারাতি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল তাঁদের হাতে।


গোপনে ১৫ জনকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, অঙ্গনওয়াড়ি নিয়োগে দুর্নীতি, কড়া নির্দেশ হাই কোর্টের

অভিযোগকারীদের আইনজীবী শুভঙ্কর দত্ত বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট অনিয়ম হয়েছে। প্রথমে আমরা সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করেছিলাম, পরে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করি। আদালত এখন কড়া নির্দেশ দিয়েছে।” আদালত জানিয়েছে, পাশ করা মোট ৭৪৯ জন পরীক্ষার্থীর স্কোর শিটও আদালতে পেশ করতে হবে।
এই মামলায় সরকারি পক্ষের আইনজীবী মোমিনুর রহমান জানান, ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত নথি সিঙ্গল বেঞ্চে জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী আদালতে সব প্রমাণ হাজির করা হবে।”
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ফলাফল ঘোষণার আগেই একটি তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে দেখা যায়, সেই তালিকার নামগুলিই চূড়ান্ত নিয়োগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ঘটনা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


ভূ-রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগে এই ধরনের অভিযোগ রাজ্যে চলমান নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল। আদালতের নির্দেশে এখন মামলার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নথি ও খাতা পরীক্ষা করা হবে।
ফলে, মেখলিগঞ্জ নিয়োগ মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আদালতে জমা পড়া প্রমাণের উপর। নিয়োগে অনিয়ম প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।







