যাদবপুরের পর মেদিনীপুর কলেজেও সংঘর্ষ! এসএফআই-এবিভিপি হাতাহাতিতে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে মেদিনীপুর কলেজে এসএফআইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা। দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে একাধিক আহত, দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তির রেশ এবার মেদিনীপুর কলেজেও। যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার কলেজ চত্বরে এসএফআইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে বচসা থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে বাম ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপি (ABVP)। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। দুপুরের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা কলেজ চত্বরে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদেই মেদিনীপুর কলেজে শুক্রবার সভার আয়োজন করেছিল এসএফআই (SFI)। অভিযোগ, দুপুর ১২টা নাগাদ পড়ুয়াদের জমায়েত শুরু হওয়ার পর আচমকাই এবিভিপির পতাকা হাতে একদল লোক সেখানে আসে। এরপরই শুরু হয় বচসা। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায় বলে অভিযোগ।

এসএফআইয়ের অভিযোগ, তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। শুধু পড়ুয়ারাই নন, কলেজের শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি বাম ছাত্র সংগঠনটির। কয়েক জনকে আহত অবস্থায় নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যান কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।

এসএফআইয়ের মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক রণিত বেরার দাবি, যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ সভা চলছিল। সেই সময়ই এবিভিপির সদস্যরা হামলা চালান। তাঁর অভিযোগ, পড়ুয়া থেকে অধ্যাপক—কাউকেই রেয়াত করা হয়নি। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

রণিতের বক্তব্য, শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের হামলার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কলেজ চত্বরে যাতে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং কর্মীরা ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজেদের কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

যদিও এসএফআইয়ের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। তাদের দাবি, মেদিনীপুর কলেজে যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছিল। সেই কর্মসূচিতে এসএফআইয়ের সদস্যরাই হামলা চালিয়েছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে গেরুয়া ছাত্র সংগঠন।

এবিভিপির দক্ষিণবঙ্গের রাষ্ট্রীয় কার্যকরী সদস্য অরুণাভ দত্ত দাবি করেছেন, ঘটনায় তাঁদের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি চলছে। মেদিনীপুর কলেজেও সেই কর্মসূচি চলাকালীন এসএফআইয়ের সদস্যরা হামলা চালান। ঘটনায় পুলিশের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ ঘিরে মেদিনীপুর কলেজে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তির প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মেদিনীপুর কলেজের ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা হামলা চালিয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ফলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলেজ চত্বরে ফের যাতে উত্তেজনা না ছড়ায় এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়, সেদিকেই এখন নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন