নজরবন্দি ব্যুরো: ক্রমশ বাড়ছে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় রহস্য! শোরগোল ছড়িয়েছে কলকাতায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ছাত্রের পরিবার। এহেন পরিস্থিতিতে কসবা স্কুলের ঘটনাস্থলে পৌঁছাল ময়নাতদন্তকারী ২ জন চিকিৎসক। কিভাবে কসবা স্কুলে মৃত্যু ছাত্রের? তদন্ত শুরু করেছেন তাঁরা। জানা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে কসবার সিলভার পয়েন্ট স্কুলে রয়েছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ওপর থেকে পড়ার কারণে ছাত্রের একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল। চোয়াল, পাঁজর, কোমর ও ডান পায়ের হাড় ভেঙেছে।
আরও পড়ুন: Nadia: স্বপ্নের হাসপাতাল চায় না বগুলা? নামবদলে মত নেই যাদবপুরের নিহত ছাত্রের এলাকাবাসীদেরই!


যদিওবা পুলিশি তদন্তের ওপর আস্থা রেখেছেন মৃত ছাত্রের পরিবার। অন্যদিকে, ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় উধাও হয়ে গিয়েছে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দুপুর ২টো ২-এর পরের ফুটেজ আর পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে সোমবার দুপুর ২টোর পর কী হয়েছিল তা জানতে পাশের একটি রিসর্টের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার কথা ভাবছে পুলিশ। কারণ, পুলিশের কাছে যেই ফুটেজটি আছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওই দশম শ্রেণির পড়ুয়ার বারবার স্কুলের ৬ তলার বারান্দায় ঘোরাঘুরি করছে। তারপরে আর ওই ছাত্রের গতিবিধি আর ক্যামেরাবন্দি হয়নি। তাই এবার পাশের রিসর্টের থেকে ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চাইছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার কসবা রথতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি স্কুল স্কুল চলাকালীন স্কুলের ৫ তলা থেকে পড়ে যায় দশম শ্রেণির এক ছাত্র। এরপরেই তড়িঘড়ি করে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু কিভাবে ওই ছাত্র পড়ে গেল? কিভাবে মৃত্যু হল ওই ছাত্রের? একাধিক প্রশ্ন উঠছে! রীতিমত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য!
যদিওবা এই ঘটনায় ছাত্রের বাবার অভিযোগ, তাঁর ছেলের উপর প্রথম থেকেই একাধিক কারণে ক্ষোভ ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের। একটি প্রজেক্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল ওই ছাত্রের। দিতে পারেনি বলে ওকে খুব বকাবকি করা হয়েছিল। কান ধরে দাঁড় করিয়েও রাখা হয়েছিল সবার সামনে। আর এতেই খুব অপমানিত বোধ করেছিল। শিক্ষক ওর উপর মানসিক চাপ দিতেন মৃত ছাত্রের বাবার দাবি, আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।



এদিকে, ওই মৃত ছাত্রের এক সহপাঠী জানায়, “সোমবার দুপুরে প্রজেক্ট নিয়ে সমস্যা হওয়ার কারণে ম্যাম ওকে ডেকে নিয়ে যান। তবে বেশ অনেকটা সময় কেটে যাওয়ার পরেও ও ক্লাসরুমে ফেরেনি। এর পরেই হঠাৎ জোরে আওয়াজ শুনতে পাই। পরে এক দাদা আমাদের এসে বলে যে, ও ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছে। তারপরেই একজন ম্যাম তখনই আমাদের ক্লাসরুমে এসে সকলকে শান্ত হয়ে থাকতে বলেন। ম্যাম বলেছিলেন, “পড়লে আবার কী হবে, হাত-পা ভাঙবে!” পাশাপাশি আমরা যাতে কিছু না বলি, সেটাও বলা হয়েছিল আমাদের।”
কীভাবে মৃত্যু ছাত্রের, ঘটনাস্থলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদল








