গণমাধ্যমে হামলা ও অগ্নিসংযোগ অশনিসংকেত, বাংলাদেশের নির্বাচন বানচাল করতেই কি এই নাশকতা?

প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট, দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগকে অত্যন্ত ভয়ংকর অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের নেতারা। তাঁদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের নাশকতা চালানো হতে পারে। সরকার যদি অগ্নিসন্ত্রাসীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

হামলা ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন শেষে শুক্রবার রাতে এসব কথা বলেন তিন–দলীয় জোট—গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের নেতারা।

কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন

জোটের মুখপাত্র ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম–এর নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা শুক্রবার রাতে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পরে তাঁরা উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে জনগণের ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে যেকোনো প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভিন্নমত থাকতে পারে, সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা, আগুন দেওয়া—এগুলো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, দেশ বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এবং জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের কারসাজি চালানো হতে পারে।

সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগ

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এ হামলার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা এসব করছে, সরকার চাইলে তা চিহ্নিত করতে পারে। সেটাই সরকারের দায়িত্ব। আর যদি সরকারের ভেতর থেকেই কারও যোগসাজশ থাকে, তাহলে এমন ঘটনা ঘটানো আরও সহজ হয়ে যায়।”

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর সরকার দায়সারা বিবৃতি দিয়েছে। প্রশাসন চাইলে বৃহস্পতিবারের নাশকতা সহজেই ঠেকানো যেত, কিন্তু তা করা হয়নি। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

‘সরকার পক্ষপাত করলে ভয়াবহ হবে’

এনসিপির নেতা হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “সরকার যদি অগ্নিসন্ত্রাসীদের প্রতি পক্ষপাত করে, তাহলে তা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে জাতির সামনে এমন বার্তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারের গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তার জবাব জনগণকে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে এবং কেন বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা পরিষ্কার করতে হবে।

‘নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য কাজ’—এবি পার্টি

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন,
“শাহবাগের বিক্ষোভের বাইরে বিচ্ছিন্ন কিছু গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নেতৃত্বে এসে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। এটি নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্যতম কাজ।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার আগে থেকেই অশান্তির আশঙ্কা জানলেও কেন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন ছিল না। বিষয়টি রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কারা উপস্থিত ছিলেন

এ সময় এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, তাসনিম জারা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদারুল আলম ভূঁইয়া, এবি পার্টির সানি আবদুল হক এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান–সহ গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন