নজরবদনি ব্যুরোঃ তড়িঘড়ি শাহি-তলব, সবকিছু কাজ এক পাশে ফেলে রেখে দ্রুত দিল্লির পথে শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিজেপির হারের পর থেকে গত এক মাসে এবশি সময় ধরে বিশ্লেষণ করেছেন রাজ্য- কেন্দ্র উভয় নেতারাই। যে পরিমাণ পরিশ্রম ব্যয় করেছিলেন বাংলায় কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা যে হারে বাংলায় নিয়ম করে সভা মিটিং করতে আসতেন তাতে তাঁরা একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন ২১ এর বাজি জিতছেন তাঁরাই। সভা মিছিলের লোক দেখে জয়ের জল মেপে বেশ খানিকটা ্নিশ্চিত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে, দেশে দৈনিক সংক্রমণ নামলো ১ লাখেরও নীচে, কমলো মৃত্যু হারও


তবে পালা ঘুরেছ ২রা মে। বিজেপির রথের চাকা ২৯২ আসনের মধ্যে ১০০ আসন পেরোতে পারেনি, অপরদিকে ১০ বছর শাসন করে আরও ৫ বছরের জন্য নবান্নতে বসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ২০০ এর বেশি। সব মিলিয়ে হতাশ বিজেপি নেতারা গত একমাসের বেশি সময় ধরে হারের রিপোর্ট বানাচ্ছেন।
ক্ষমতায় ফিরেই দিন কয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দলীয় বৈঠক করেছন, বেশ বড়ো রদবদল করেছেন একাধিক পদে। তার পরেই আজ বঙ্গ বিজেপির রদবদলের কথা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে দিল্লি তলবে একই সঙ্গে উঠে গেছে একাধিক প্রশ্ন। রাজ্যে বিজেপির ব্যাপক হারের পর থেকেই জেলাস্তরের নেতা থেকে রাজ্যের নেতারা অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে। সঙ্গে কৈলাস-অরবিন্দ মেননের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ তথাগত রায়।
কানাঘুষো চলছিলোই সংগঠন শক্ত করতে বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরানো হবে দিলীপকে। তাঁর জায়গায় আসবেন অন্য কেউ। আচমকা শুভেন্দু অধিকারিকে দিল্লি তলবে অনেকেই মনে করছে ওই জায়গায় আসতে চলেছেন শুভেন্দু। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে দলের প্রায় সব আলো কেড়ে নিয়েছেন তিনি একাই। দলের খুব খারাপ পরিস্থিতিতেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে গিয়ে নিজের দমের পরিচয় দিয়েছেন অধিকারী। এদিকে দিনে দিনে দলের মধ্যেই ভাগ হচ্ছে শুভেন্দুর অনুগামী আর দিলীপের অনুগামী। সব মিলয়ে অনেকেই মনে করছে পদ বদল হবে দুজনেরই।


তড়িঘড়ি শাহি-তলব, দল গোছাতে দিলীপের জায়গায় বসবেন শুভেন্দু! এই নিয়ে দ্বন্দ্বও দলের ভেতরে অনেক। কয়েকদিন আগেই দলে এসে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পদে আসীন, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে জায়গা পাওয়া, এসব দলের আদি নেতারা মেনে নিতে পারেননি। তার মধ্যেই গত কয়েকদিন ত্রিপল চুরি থেকে ফৌজদারি মামলা একাধিক জায়গায় নাম জড়িয়েছে শুভেন্দুর।
অনেকের মতে অধিকারীকে দিল্লি তলবের এটাও কারণ। বিজেপির নেতারা চাইছেন না একধিক মামলায় জড়িত কেউ দলের প্রধান মুখ হয়ে থাকুক। আপাতত শুভেন্দুর শাহি তলব নিয়ে একাধিক বক্তব্য উঠে এলেও, অনেকেই মনে করছে এবার রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। তবে দলের তরফ থেকে স্পষ্ট কিছু না জানালেও, এক নেতার কথায় রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি প্রদান এবং সেই বিষয়েই আলোচনার কারণে দিল্লি তলব বিরোধী রাজ্যনেতাকে। রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের জন্য রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি দেবে বঙ্গ বিজেপি।







