খাপছাড়া গণ-টিকাকরণ ডেকে আনছে নতুন সমস্যা! মোদিকে চিঠি গবেষকদের

খাপছাড়া গণ-টিকাকরণ ডেকে আনছে নতুন সমস্যা! মোদিকে চিঠি গবেষকদের
খাপছাড়া গণ-টিকাকরণ ডেকে আনছে নতুন সমস্যা! মোদিকে চিঠি গবেষকদের

নজরবন্দি ব্যুরোঃ খাপছাড়া গণ-টিকাকরণ ডেকে আনছে নতুন সমস্যা! এর ফলে উদ্ভব হতে পারে করোনার নতুন প্রজাতি। সম্প্রতি এই মর্মেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন AIIMS এর চিকিৎসক সহ আর একদল বিশেষজ্ঞ। এই মুহুর্তে তা নিয়েই শোরগোল দেশ জুড়ে।

আরও পড়ুনঃ নামলো দৈনিক মৃত্যুর হার, ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণও কমেছে দেশে।

কয়েকমাস আগেই দেশে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। পরিস্থিতি এই মুহুর্তে নিয়ন্ত্রণে থাক্লেও দিন কয়েক আগে পর্যন্ত দেহ জুড়ে কেবল হাহাকার ছিল। ঘাটতি ছিল অক্সিজেন-বেড এর ঘাটতি ছিল টিকার। দেশে ৬০ বছরের উর্দ্ধদের জন্য আগেই টিকাকাওরন চালু হয়েছিল। তার পরেই দ্বিতী ধাপে শুরু হয়েছিল ৪৫ উর্দ্ধদের জন্য। তবে করনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কাছে বিপর্যস্ত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৮ বছরের ওপরের সকলকে টিকা দেওয়া হবে।

তার পরেই প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়েছে এই রিপোর্ট। যেখানে একদল গবেষক মনে করছেন, দেশে এই মুহুর্তে যুবক-যুবতী সকলকে এক নাগাড়ে টিকা প্রদান না করে দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী টিকা প্রদান করা উচিত। রিপর্টে বলা হয়েছে, ‘ভারতে অতিমারি পরিস্থিতি অনুসারে টিকা প্রদান করা উচিত। সব বয়সিদের টিকা দেওয়ার বদলে হাতে থাকা রসদ এবং অতিমারি সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে টিকাকরণের নীতি ঠিক করতে হবে।’

সঙ্গে খাপছাড়া ভাবে এবং এক নাগাড়ে সব বয়সীদের টিকাকরণ, এবং কখনো টিকার অভাবে টিকাকরণ বন্ধ হয়ে যাওয়া, এসবের ফল স্বরুপ ভাইরাসের নতুন প্রজাতির প্রকোপ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেছে বিশেষজ্ঞ টিম। তাঁদের মতে এই মুহুর্তে করোনার সংক্রমণ রুখে দেওয়ায়র জন্য একমাত্র হাতিয়ার টিকাকরণ এতা যেমন সত্যি, তেমনই এও সমান সত্যি যে টিকার যত্রতত্র ব্যবহারে হিতে বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে দেশে।

তাঁদের প্রস্তাব এই মুহুর্তে যাঁরা ইতিমধ্যে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের টিকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঙ্গে জানিয়েছেন, যুবক-যুবতি সকলে একনাগাড়ে টিকাকরণের প্রয়োজনীয়তা নেই এই মুহুর্তে। চিকিতসক-গবেষকদের মতে একেই দেশে সীমিত পরিমাণ টিকার ব্যবস্থা আছে। তার মধ্যে টানান টিকাকরণের ফলে ফুরিয়ে আসবে সেটুকু রসদও। গণ টিকাকরণন এবং অসম্পূর্ণ টিকাকরণ মিউট্যান্ট স্ট্রেইনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে ওই রিপোর্টে।

বিশেষজ্ঞদের নিদান, করোনা মোকাবিলার একমাত্র হাতিয়ারকে যত্রতত্র ব্যাবহার না করে কৌশলগত ভাবে ব্যাবহার করুক কেন্দ্র। সামগ্রিক বিষয় ভাবনা চিন্তা করে এক নাগাড়ে টিকাকরণের পরিবর্তে যেসব স্থানে সংক্রমণ বেশি প্রথমে সেসব জায়গায় প্রাধান্য দেওয়া হোক, সেখানে জনগনের জন্য দুই ডোজের ব্যবধান কমিয়ে আনা হোক প্রয়োজনে। হড়বড়িয়ে একসঙ্গে সবটুকু না করে ধীরে ধীরে সমাধান করা হোক সময়া, নইলে হিতে-বিপরীতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here