নজরবন্দি ব্যুরো: ভাঙড় বা চোপড়ার ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই তৃণমূল যুক্ত নয়, প্রতিক্রিয়া মমতার। এরই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ভাঙড়ের ঘটনা নিয়ে সরাসরি তোপ দেগেছেন আইএসএফের বিরুদ্ধে৷ তিনি বলেছেন, প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে, সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে৷
আরও পড়ুন:১৪৪ ধারাকে ‘ডোন্ট কেয়ার’, দলীয় সমর্থকদের নিয়ে বিডিও অফিসে হানা রাজ্যের মন্ত্রীর
গত দু’দিনের মতো বৃহস্পতিবারও সকাল থেকেই ভাঙড়ে তীব্র অশান্তি শুরু হয়৷ সকাল থেকে থমথমে ভাঙড়ে দুপুর গড়াতেই শুরু হয় বোমা-গুলির শব্দব্রম্ম৷ ক্রমে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ভাঙড়৷ মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়তে থাকে৷ ভাঙড়ের বিডিও অফিসের সামনের এলাকা কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নেয়৷ একের পর গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়৷ ধীরে ধীরে পুলিশ ঘিরে ফেলে গোটা এলাকা৷
এই সময়ে ডায়মন্ড হারবার থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পঞ্চায়েত ভোটের অশান্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়াতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত বিস্তৃত এলাকায় ভোট হচ্ছে৷ তার মধ্যে তিনটে অঞ্চলে গোলমাল৷ এ সবে আমাদের দল কোনও ভাবেই যুক্ত নয়৷ সমস্ত দিক থেকে আমাদের আমাদের দলের বিভিন্ন স্তরে জোরের সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শান্তি বজায় রাখার৷ যে যাঁর মতো নমিনেশন জমা দেবে৷’

এর পরেই বাম জমানার উদাহরণ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘২০০৩ সালে সিপিএম-এর আমলে ৩৬ জন মারা গিয়েছিলেন৷ ২০১৩ সালে ৩৯ জন মারা গিয়েছিলেন, যে বার মীরা পাণ্ডে কমিশনার ছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ভোট করা হয়েছিল৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের সমস্যা একটাই৷ একটা বাড়ি থেকে বিভিন্ন মানুষজন দাঁড়িয়ে পড়ছেন ভোটে৷ সেই নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোথাও কোথাও ঝামেলা হচ্ছে৷’

চোপড়া ও ভাঙড়ের অশান্তি নিয়ে মমতা বলেন, ‘চোপড়ায় যে প্রবলেম হয়েছে, তার সঙ্গে দল যুক্ত নয়৷ যাঁরা করেছে, পার্টি তাঁদের টিকিট দেয়নি৷ তাঁরা গতকাল পর্যন্ত টিকিট দেওয়ার দরবার করেছে৷ আমরা ক্রেডিবিলিটি দেখে টিকিট দিয়েছি৷ আমি পুলিশকে বলেছি, স্ট্রং-অ্যাকশন নেওয়ার জন্য৷’ এর পর ভাঙড় নিয়ে মমতা বলেন, ‘ভাঙড়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জিতেছে৷ তাঁরাই প্রথম দিন থেকে এই ঘটনা শুরু করেছে৷ গতকাল একটি প্রতিরোধ হয়েছে, কিন্তু শুরু করেছে ওঁরা৷ ন্যাক্কারজনক একটি দল, ওদের নাম নিতে খারাপ লাগে৷ প্রশাসনকে আমি বলেছি স্ট্রংলি হ্যান্ডেল করতে ৷’
ভাঙড় বা চোপড়ার ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই তৃণমূল যুক্ত নয়, প্রতিক্রিয়া মমতার

অন্যদিকে, আইএসএফের থেকে অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, ,‘মনোনয়ন কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার নামে মাঝপথে ফেলে রেখে পালায় পুলিশ।’ বিষয়টি নিয়ে ফের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চলেছে তারা। আগামীকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ শুনানির সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার ভাঙড়ের সংঘর্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আইএসএফ কর্মী মহিউদ্দিন মোল্লার৷ আইএসএফ কর্মীদের অভিযোগ, এদিন বেলা ১২ টা থেকে ভাঙড় দু নম্বর ভিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকায় আইএসএএফ কর্মীদের আটকে রাখা হয়৷ তাঁরা জানায়, আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় একের পর এক বোমা৷ গোটা এলাকা ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়৷ তারপরেই চলে এলোপাথাড়ি গুলি৷ তাতেই গুলিবিদ্ধ হন মহিউদ্দিন৷



