ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সোমবার নদিয়ার নাকাশিপাড়ার সভা থেকে সরাসরি কড়া সতর্কবার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইভিএম কারচুপির আশঙ্কার পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন—ভোটের দিন মহিলাদের সম্ভ্রমহানির চেষ্টা করে অশান্তি তৈরি হতে পারে। সেই প্রেক্ষিতে দলীয় কর্মী থেকে সাধারণ ভোটার—সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
নাকাশিপাড়ার জনসভায় মমতা বলেন, ভোটের দিন যদি কেউ গ্রাম বা রাস্তা আটকে দেয়, তাহলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “হাতে ঝাঁটা রাখুন। কেউ রাস্তা আটকালে ঝেঁটিয়ে পরিষ্কার করে দিন।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে তিনি জনতাকেই সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।


মহিলাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নামে অযথা শরীর তল্লাশি করা হতে পারে। তাঁর কড়া মন্তব্য—“মেয়েদের গায়ে হাত দিলে আগে নিজের ভোটটা দিয়ে নিন, তারপর প্রতিবাদ করুন।” তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটাধিকার নষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে।
একইসঙ্গে ইভিএম নিয়েও সতর্ক করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর নির্দেশ, ইভিএম খারাপ হলে নতুন মেশিন এনে ভোট করানোর দাবি তুলতে হবে এবং প্রতিটি ভোট সঠিকভাবে রেকর্ড হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। “ইভিএম পাহারা দেবেন”—এই বার্তাও দেন তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, CRPF-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে ভোটে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে। এমনকি বাইরে থেকে টাকা, মাদক এবং অস্ত্র আনার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর কথায়, “গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার ফোর্সের গাড়ি ও ফ্লাইটে টাকার বান্ডিল ঢুকছে—সময়মতো প্রমাণ দেব।”


এদিন SIR-এ নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তাঁর বার্তা—নাম কেটে বা কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে ভয় দেখিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।
এছাড়া তামিলনাড়ুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার অফিসারদের বাইরে পাঠিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এর পিছনে রাজনৈতিক বোঝাপড়া থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে মমতার এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং সরাসরি সতর্কবার্তা—ইভিএম থেকে নিরাপত্তা, সব ক্ষেত্রেই নজরদারি বাড়ানোর ডাক।








