বাংলার ২০২৬ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দান এখন তুঙ্গে। একদিকে কেশিয়াড়ির জনসভা থেকে Mamata Banerjee-র তীব্র আক্রমণ, অন্যদিকে কালনার মঞ্চে জনসমুদ্র দেখে আত্মবিশ্বাসী Narendra Modi। একই দিনে দুই শিবিরের এই শক্তিপ্রদর্শন কার্যত ভোটের লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
কেশিয়াড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপিকে ‘অত্যাচারী’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা বাংলার মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং নানা ইস্যুতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবারই বিজেপির নীতির বিরোধিতা তুলে ধরছেন এবং নিজের সরকারের প্রকল্পগুলিকে সামনে এনে জনসমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।


অন্যদিকে, কালনার জনসভায় মোদি শুরু থেকেই আবেগঘন সুরে বক্তব্য রাখেন। Chaitanya Mahaprabhu-র নাম করে ভাষণ শুরু করে তিনি বলেন, “এটা শুধু ট্রেলার, আসল পরিবর্তন এখনও বাকি।” তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের জন্য তৈরি এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।
মোদি তাঁর বক্তব্যে তৃণমূলকে দুর্নীতির অভিযোগে সরাসরি আক্রমণ করেন। “১৫ বছরের দুর্নীতির হিসেব হবে,”—এই বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে দেন বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমি এসেছি আপনাদের ভরসা দিতে।”
প্রচারের মঞ্চ থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়। মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা, বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের সমস্ত শূন্যপদ পূরণের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। শিল্পায়নের কথাও তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় নতুন বিনিয়োগ আসবে।


কালনার মঞ্চ থেকে নতুন স্লোগানও দেন মোদি—“ভয় আউট, ভরসা ইন, বিজেপিকে ভোট দিন।” এই স্লোগানেই স্পষ্ট, ভোটের লড়াইয়ে মানুষের আস্থা অর্জনকেই প্রধান লক্ষ্য করছে বিজেপি।
সব মিলিয়ে, একই দিনে দুই শিবিরের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ও প্রতিশ্রুতির লড়াই বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এখন দেখার, এই রাজনৈতিক বার্তা শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলে ভোটবাক্সে।









